অভ্যুত্থানে হামলায় জড়িত ঢাবির ১২৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

■ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ■ 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলায় জড়িত ১২৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলাসংক্রান্ত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ১২৮ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রক্টর বলেন, ‘৫০০ পৃষ্ঠার সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন উন্মুক্ত করার বিষয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষকদের ভূমিকা বিষয়ে আলাদা একটা কমিটি কাজ করছে।’

সত্যানসুন্ধান শেষে গত ১৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের পাশে লাউঞ্জে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের হাতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তুলে দেন কমিটির আহ্বায়ক ও আইন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুল হক সুপণ। প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২২ জনকে হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

উপাচার্য কার্যালয়ের লাউঞ্জে প্রতিবেদন দেওয়ার পর কমিটির প্রধান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা হয়েছে। ওই সময় থেকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত হামলাকারীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২২ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা গেছে। আর অন্তত ৭০ জন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে হামলাকে উসকে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ১৫ জুলাইয়ের হামলা ছিল ‘পূর্বপরিকল্পিত’। সেখানে দুইটি পক্ষের একটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে, আরেকটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নেয়। হামলায় সরকারি বাঙলা কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীও ছিল।

মেয়েদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও ছিল বলে জানান কমিটির আহ্বায়ক।

১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত সহিংসতার ঘটনা তদন্তে গত ৮ অক্টোবর সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এতে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুল হক সুপণকে প্রধান করা হয়। আর আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. নাদিয়া নেওয়াজ রিমি, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা, সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়াকে সদস্য করা হয়। এছাড়া ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তদন্ত) শেখ আইয়ুব আলীকে কমিটির সচিব করা হয়।  

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চলাকালে ১৫ জুলাই ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক মারধরের শিকার হন। ছাত্রলীগের হাতে মার খেয়ে কেবল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯৭ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নেন। অনেক শিক্ষার্থী রাতে হলে ফিরে মারধরের শিকার হন। ১৬ ও ১৭ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর আবারও হামলা করা হয়। ১৭ জুলাই বিকেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এরপর থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটে।

সত্যানুসন্ধান কমিটিতে একশ’র অধিক হামলাকারীর নাম এলেও ইতোমধ্যে শাহবাগ থানায় দুটি পৃথক মামলায় ৬০০-এর অধিক ছাত্রলীগ নেতাকে আসামি করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার ও আরমান হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী এই মামলাগুলো করেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *