নির্বাচনে ঢাকাসহ দশ জেলার ১৩ আসন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী ও ঢাকাসহ ১০ জেলার ১৩টি আসন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এ ছাড়া মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় আছে ৪৫টি আসন। এসব এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, সংঘাত ও নাশকতার আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সম্প্রতি পটুয়াখালী-৩ আসনের দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গলাচিপা ও দশমিনা এলাকা নিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসন। এখানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন। দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত পুরো এলাকা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর প্রশাসন কিছুটা দুর্বলতা প্রকাশ করছে বিভিন্ন জায়গায়। আমি তাদের বলব একটু শক্ত হতে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সচেতন হন।’

গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেন, ‘যদি প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারে, তাহলে কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হবে। আগামী নির্বাচন বানচাল করার জন্য দেশি-বিদেশি অপশক্তি এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মতো ব্যক্তিদের ওপর ভর করছে এবং করবে।’

এদিকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও প্রার্থীর গায়ে ডিম ছোড়ার মতো ঘটনায় আলোচনায় ঢাকা-৮ আসনও। এখানে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা আমরা আমাদের হাতে তুলে নেব না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হলো ১২ তারিখে সব সন্ত্রাসীকে দূরে রাখা। যদি দূরে রাখতে না পারে এবং তারা কেন্দ্রে আসে, আমরা জনগণকে নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলব। যারা ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসবে, একজনও বাড়ি ফেরত যেতে পারবে না।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সর্বোচ্চ গালিগালাজ সহ্য করে মাটি কামড়ে আমার কর্মীদের নিয়ে পড়ে আছি। কোনো শব্দ করছি না। খেয়াল করেছেন না আপনারা? সেই মেডিকেল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে আছি।’

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে কাজ করতে হবে। কোনো বড় দল, ছোট দল, হেভিওয়েট প্রার্থী বা লাইটওয়েট প্রার্থী নেই। সবাই সমান।’

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, জানুয়ারি মাসেই ৬৪টি নির্বাচনী সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৫০৯ জন। আর চার জেলায় নিহত চারজন।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ‘সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে প্রতিপক্ষ দল। প্রশাসনকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছে তারা। তাই এ আসনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হবে প্রশাসনকে।’ 

বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘বিএনপির আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা পুরোনো বন্দোবস্ত নতুন করে চালু করতে চায়। ২০০১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সন্ত্রাস করেছে তারা। আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচনের কথা সবাই জানেন। কয়েক দিন আগে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি টিভি সংলাপ অনুষ্ঠানে বিএনপিকর্মীরা ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এর পর থেকে বিএনপি নিয়ে আতঙ্ক আরও ছড়িয়েছে।’ মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মজিবর রহমান সরোয়ারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের দিন চরমোনাই ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে পীরের লোকজন হামলা করে মজিবর রহমান সরোয়ারকে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমরা চরমোনাই ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করি। বরিশাল-৫ আসনে বাসদের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘দেশের ৩০০ আসনই ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ। তারা কীভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করবে– আমার বোধগম্য নয়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকায় আছে। ভোটের দিন কেন্দ্রে সন্ত্রাস হলে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বলে মনে হয় না।’ 

খুলনা-৫ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এলাকার হিন্দু ও নারীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। ডুমুরিয়ার মঠবাড়িয়ায় আমার উঠান বৈঠক হতে দেয়নি। ফুলতলায় প্রচারে বাধা ও নারীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ পেলাম, তিন দিন আগে আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীদের এলাকায় এনে গোপন বৈঠক করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে। জিততে না পারলে কেন্দ্র দখলের আওয়াজ দিচ্ছে প্রতিপক্ষরা। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনের পরিবেশ ব্যাহত হবে।’ 

মধ্যম ঝুঁকিতে যেসব আসন

পুলিশের হিসাবে সংঘাতের আশঙ্কা থেকে মধ্যম ঝুঁকিতে যেসব আসন তালিকায় রয়েছে তা হলো– পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও-৩, লালমনিরহাট-১, রংপুর-৩, রংপুর-৪, গাইবান্ধা-৫, বগুড়া-২, বগুড়া-৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-১, রাজশাহী-২, নাটোর-১, সিরাজগঞ্জ-৪, কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহ-৩, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২, খুলনা-৪, সাতক্ষীরা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-২, ভোলা-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-২, টাঙ্গাইল-৮, ময়মনসিংহ-১০, ময়মনসিংহ-১১, নেত্রকোনা-৩, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-১০, নারায়ণগঞ্জ-৩, ফরিদপুর-৪, সুনামগঞ্জ-২, মৌলভীবাজার-৩, কুমিল্লা-১১, চাঁদপুর-৪, নোয়াখালী-২, চট্টগ্রাম-১৪ ও চট্টগ্রাম-১৬।

পুলিশ বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে যেসব আসনের তালিকা করা হয়েছে, সেখানকার সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও ঘাটতি থাকলে তা মাঠ প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। প্রশাসনের যারা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের মধ্যে সমন্বয় বৈঠক হচ্ছে। মাঠ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিমুক্ত তালিকা প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করবে পুলিশ। অতি ঝুঁকির তালিকায় নতুন আসনের নাম যুক্ত হতে পারে। আবার অনেক আসনে সহিংসতার ঝুঁকির মাত্রা কমতে পারে। 

৫০টি আসনে সংঘর্ষ

জানুয়ারি মাসে মোট ৬৪টি নির্বাচনী সহিংসতার তথ্য দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। এসব সহিংসতায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে; আহত ৫০৯ জন। আর ডিসেম্বর মাসে সারাদেশে সাতটি সহিংসতায় একজনের প্রাণহানির পাশাপাশি ২৭ জন আহত হয়েছিলেন। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৫১টি আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ হয়েছে। এসব আসন হলো– পঞ্চগড়-১, লালমনিরহাট-১, চুয়াডাঙ্গা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-৩, ভোলা-১, বরিশাল-৩, টাঙ্গাইল-৮, শেরপুর-৩, নেত্রকোনা-৩, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, কুমিল্লা-১১, যশোর-৫, কুমিল্লা-৯, বাগেরহাট-১, খুলনা-৩, শরীয়তপুর-১, সিরাজগঞ্জ-১, ঢাকা-১২, ভোলা-৩, চট্টগ্রাম-২, ফেনী-৩, ফেনী-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, লক্ষ্মীপুর-৩, ময়মনসিংহ-১, বগুড়া-৫, কিশোরগঞ্জ-৪, চট্টগ্রাম-১১, বরিশাল-১, মাদারীপুর-৩, ভোলা-২, ময়মনসিংহ-৯, লক্ষ্মীপুর-২, টাঙ্গাইল-১, খুলনা-২, সিরাজগঞ্জ-২, জামালপুর-৪, শরীয়পুর-২, নারায়ণগঞ্জ-২, ঢাকা-৩, ঝালকাঠি-১, চট্টগ্রাম-১, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-২, ঢাকা-৪ ও ভোলা-৪।  

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি 

পুলিশ সূত্র বলছে, যেসব কেন্দ্রে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ভিডিও ধারণ করা হবে। কোনো সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের আগেই অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ডিএমপির অর্থায়নে বসানো হচ্ছে আরও ৬০০ ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি)।

রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আট লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী এক লাখ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনী তিন হাজার ৭৩০, পুলিশ এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড তিন হাজার ৫৮৫, র‍্যাব সাত হাজার ৭০০ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন।

চট্টগ্রামে ৩৪৫ ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

শুধুমাত্র চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে জেলার ১৩টি আসনে এক হাজার ৫শ ৬২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৫টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তথ্য মতে,চট্টগ্রাম জেলার ১৬ থানা নিয়ে ১৩টি সংসদীয় আসন গঠিত। এরমধ্যে চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৮ ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের আংশিক এলাকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন।

নিরাপদ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে ১৫৬২ ভোট কেন্দ্রকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৪৫টি ভোট কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জোরারগঞ্জ ও মিরসরাই থানা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১ আসনে ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৬টি। এরমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোন কেন্দ্র নেই।

একইভাবে ফটিকছড়ি আর ভূজপুর থানা ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-২ আসনের ১৪০টি কেন্দ্রের তিনটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

সন্দ্বীপ নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৩ আসনে ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী) আসনে ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮, চট্টগ্রাম-৫ (হাটাহাজারী-সিটি কর্পোরেশন আংশিক) আসনে ১৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ৯৫ কেন্দ্রের মধ্যে ২১, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ৯২ কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ আংশিক-চান্দগাঁও আংশিক) আসনে ১৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ২৫, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১১৩ কেন্দ্রের মধ্যে ২৪, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ১১৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশসাতকানিয়া আংশিক) আসনে ১০০ কেন্দ্রের মধ্যে ৯, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ১৫৭ কেন্দ্রের মধ্যে ২২ এবং চট্টগ্রাম ১৬ (বাঁশখালী) আসনে ১১২ কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এরমধ্যে সন্দ্বীপের ৮৩টি, চন্দনাইশের তিনটি, সাতকানিয়ার একটি এবং বাঁশখালীর তিনটি কেন্দ্রকে দূর্গম এলাকার কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, জেলার সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে দুই জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও অস্ত্রসহ একজন সেকশন কমান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রগুলোতে তিন জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও অস্ত্রসহ একজন সেকশন কমান্ডার মোতায়েন থাকবে।

এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য এবং এক অথবা দুই জন করে প্রতিটি কেন্দ্রে গ্রাম পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।

এছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় অস্ত্রধারী একজন আনসার সদস্য, অস্ত্রধারী একজন সহকারী সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন আনসার ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

অপরদিকে, নগরীর সাধারণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে তিন জন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে চার জন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য এবং প্রতি কেন্দ্রে ১০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

তাছাড়া প্রতি ১০টি কেন্দ্রের জন্য পুলিশের একটি মোবাইল টহল টিম মোতায়েন থাকবে। সব ভোট কেন্দ্রের জন্যই থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *