■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রথমে তিনি নিজে পর্ষদের সনদে স্বাক্ষর করেন। পরে এতে অন্তত ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেন।
তথাকথিত এই শান্তি পর্ষদ বিশ্বে সংঘাত নিরসনে কাজ করবে। সনদে স্বাক্ষরের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এখন থেকে শান্তি পর্ষদ একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করলো।
সনদে স্বাক্ষর শেষে বক্তব্য দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেছেন, শান্তি পর্ষদের সঙ্গে সবাই কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের পাশাপাশি জাতিসংঘের সঙ্গেও কাজ করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন ট্রাম্প।
প্রায় ৫০টি দেশকে শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩৫টি দেশের নেতা যোগ দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব দেশের মধ্যে আছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান, কাতার ও মিশর।
ন্যাটোভুক্ত যেসব দেশ শান্তি পর্ষদে যোগ দেবে সেগুলো হলো- তুরস্ক ও হাঙ্গেরি। এর বাইরে মরক্কো, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, কসোভো, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, প্যারাগুয়ে ও ভিয়েতনাম শান্তি পর্ষদে যোগ দেবে।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পর্ষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট শান্তিয়াগো পেনা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কসোভোর প্রেসিডেন্ট জোসা ওসমানি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিয়ান, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী রোশেন জেলিয়াজোভ ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।
ট্রাম্পের মতে, বোর্ডের লক্ষ্য শুধুমাত্র গাজার স্থায়ী শান্তি নয়, এটি বিশ্বব্যাপী সংঘাত মোকাবিলার একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। মার্কো রুবিও বোর্ডকে ‘কর্মপ্রবণ নেতাদের একটি দল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে প্রথমে গাজার শান্তি নিশ্চিত হবে, পরে অন্য অঞ্চলেও এটি সম্প্রসারিত হবে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের বোর্ড নিয়ে উদ্বেগ ও সমালোচনা জানিয়েছেন রাজনীতিক বিশেষজ্ঞরা। তারা উদ্বেগের মূল কারণগুলো উল্লেখ করেছেন- ট্রাম্পের অসীমকালীন চেয়ারম্যান পদ; বোর্ডের প্রসারিত লক্ষ্য, যা শুধুমাত্র গাজার পুনর্নির্মাণে; জাতিসংঘের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, বিশেষত ট্রাম্পের মন্তব্য বোর্ডটি হয়তো জাতিসংঘের বিকল্প হতে পারে; পরিষদ সদস্যদের তিন বছরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। স্থায়ী আসনের জন্য এক বিলিয়ন ডলার প্রদান করতে হবে; দুর্নীতির সম্ভাবনা।
ট্রাম্প বোর্ডের উদ্বোধনের দিনে তার ইরান-নিয়ন্ত্রিত কূটনীতি এবং গাজার যুদ্ধবিরতি অর্জনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর নেওয়া সামরিক পদক্ষেপকে ট্রাম্প উল্লেখ করে বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপ ছাড়া গাজার শান্তি সম্ভব হতো না।’
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ডাভোসে পৌঁছেছেন। ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করে বলছেন, ‘এখন সময় এসেছে তারা একসাথে বসে চুক্তি করা। যদি না করে, তারা বোকার মতো আচরণ করছে- এটি উভয়ের জন্যই।’
