৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। 

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি। 

মার্কিন ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৩। কেন্দ্রস্থল মাটি থেকে ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভারতের ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণ সংস্থা (ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি) জানিয়েছে, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫।

ভূমিকম্পে সাতক্ষীরায় মানুষ শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন বলে জানা গেছে। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া অনেকে আতঙ্কিত হয়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান। 

এ ছাড়া খুলনা, কুষ্টিয়া, পিরোজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়া থেকেও ভূমিকম্প টের পাওয়া গেছে বলে জানতে পেরেছে ঢাকা পোস্ট।   

কলকাতায় ভূমিকম্পের ফলে ভয়ে এবং আতঙ্কে বাড়ি, অফিস ছেড়ে অনেকে বাইরে বেরিয়ে যান। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দোকান-বাজারে। কম্পনে শহরের কয়েকটি পুরনো বাড়ি হেলে পড়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসীরা। তবে এখনও পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও মেলেনি। 

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৬ দিনে দেশে অন্তত আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বুধবার রাতে মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে।  

১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন দিয়ে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রার দুটি কম্পন ছিল। এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুবার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সব মিলিয়ে ২৬ দিনে আটবার কেঁপেছে দেশ। 

আবহাওয়া অফিস বলছে, চলতি মাসের প্রথম ২৭ দিনেই ১১ বার কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের ভূমি। এগুলোর বেশিরভাগ উৎপত্তি আশপাশ অঞ্চলে হলেও অভ্যন্তরে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

দেশে গত ২ দিন ভূমিকম্প টের পাওয়া গেলেও উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের বাইরে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে অনুভূত ৪ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম। এর আগের দিন রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হয় ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প। এর উৎপত্তি ছিল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের মাওলাইক এলাকায়।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক যে অবস্থান সেখানে ভূমিকম্প হওয়াটাই স্বাভাবিক ঘটনা। ভূমিকম্প না হওয়াটা ভয়ের। দীর্ঘদিন শক্তি জমার পর ভূমিকম্প হলে মাত্রা বেশি হয়, তাতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। আরকিছু দিন পরপর ভূমিকম্প হলে শক্তি জমে বড় মাত্রার কম্পন সৃষ্টি হতে পারে না। তবে সব সময় সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ভূমিকম্পের সময় কীভাবে এক-দুই কদমের মধ্যে নিজেকে নিরাপদ স্থলে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে সেটার মহড়া দেওয়ার পরামর্শও দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা বলেন, ‘পৃথিবীতে প্রতিদিন অন্তত অর্ধশতাধিক ভূমিকম্প হয়। তবে এগুলোর অনেকগুলোই আমরা টের পাই না বা অনুভব হয় না। তবে এই ছোট কম্পনগুলো একেকটা বড় ভূমিকম্পের বার্তা।’

এই ভূতত্ত্ববিদ আরও বলেন, ‘মূলত যেখানে একবার ভূমিকম্প হয়, সেখানেই আবার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। কারণ সেখানে শক্তি জমা আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। এই বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাও চিহ্নিত করা হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব সিলেট অঞ্চল থেকে দক্ষিণের কক্সবাজার তথা চট্টগ্রাম অঞ্চল ভূমিকম্পের জন্য ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এই অঞ্চলে অতীতে বড়মাত্রার ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে। এই অঞ্চলের মাটির নীচে যে পরিমাণ শক্তি জমায়িত রয়েছে তাতে শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছুই নয়। এটি যখন তখনই ঘটতে পারে।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *