■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১ জন। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে ২৭ জন শত কোটিপতি প্রার্থী।
‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটির তথ্য তুলে ধরা হয়। তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। এ সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজজামান বক্তব্য দেন।
টিআইবির তথ্যমতে; এবার সকল দলের প্রার্থীদের ঘোষিত সর্বমোট নির্বাচনী ব্যয় ৪৬৩.৭ কোটি টাকা, প্রতিজন প্রার্থীর গড় ব্যয় সাড়ে ২২ লাখ টাকা। ঘোষিত সবচেয়ে বেশি ব্যয় বিএনপির ১১৯.৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মোট ব্যয় ৮০.৬ কোটি টাকা।’ নির্বাচনে মোট প্রার্থী প্রায় ২ হাজার।
টিআইবি বলছে, এবারের নির্বাচনে বর্তমানে মামলা আছে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ। আর অতীতে মামলা ছিল ৭৪০ জন বা ৩১.৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
নির্বাচনে বিএনপির মোট প্রার্থীর মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ‘ঋণগ্রস্ত’ বলে জানিয়েছে টিআইবি। ১০টি রাজনৈতিক দলের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি বলছে, বিএনপির ৫৯.৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত; যা সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা; এই হার ৩২.৭৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ২৬.৯৭ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত বলে জানিয়েছে টিআইবি।
সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশেরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। প্রার্থীদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮৮৬৮.৫২ কোটি টাকা। সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থী সবচেয়ে কম হলেও তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৭৪৭১.৬৭ কোটি টাকা।
টিআইবির তথ্যে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিচ্ছে। যাতে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮১ জন। এতে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র, অর্থাৎ ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। আর ১৭৩২ জন দলীয় মার্কা নিয়ে লড়বেন।
নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থী মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ বলছে টিআইবি। প্রতিবারের মত এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।
প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী মূল পেশা বিবেচনায় ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষক পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২.৬১ এবং ১১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী।
এবার ২৫৯ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদ বেশি। ১১৮ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের দালান বা ফ্ল্যাট সংখ্যা বেশি এবং ১৬৪ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের জমির পরিমাণ বেশি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। একই দিনে হবে গণভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিচ্ছে। চূড়ান্ত প্রার্থী এক হাজার ৯৮১ জন। এতে ২৪৯ জন, অর্থাৎ মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রায় ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র।
প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী মূল পেশা বিবেচনায় ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষকতা পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ এবং ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।
