বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি বিদেশ নেওয়ার অবস্থায় নেই। শারীরিক অবস্থা আল্লাহর অশেষ রহমতে যদি ‘স্টেবল (স্থিতিশীল) হয়, তখন চিন্তা করে দেখা হবে যে তাকে বিদেশে নেওয়া হবে সম্ভব হবে কিনা।

শনিবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সবশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে আছেন, তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন। দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকবৃন্দ, আমেরিকার জন হপকিন্স এবং লন্ডন কনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা তার চিকিৎসা করছেন।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে তারা একটা মেডিকেল বোর্ড সভা করেছেন দুই ঘণ্টা, আড়াই ঘণ্টা ধরে। সেখানে তারা সমস্ত চিকিৎসকের মতামত নিয়ে কথা বলেছেন এবং কীভাবে তারা চিকিৎসা করবেন এবং সেই চিকিৎসা কী ধরনের হবে, সে বিষয়ে তারা কালকে মতামত দিয়েছেন নিজেদের মেডিকেল বোর্ডে।

এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন, এ কথা তারা (চিকিৎসকেরা) বলছেন যে হয়ত প্রয়োজন হতে পারে; কিন্তু তার এখন যে শারীরিক অবস্থা…তাকে বিদেশে নেওয়ার মত কোনো শারীরিক অবস্থা নেই। তবে বিদেশে নেওয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রয়েছে- ভিসা, অন্যান্য দেশের সঙ্গে…যেসব দেশে যাওয়া সম্ভব হতে পারে, সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপারগুলো নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে কাজ এগিয়ে আছে। অর্থাৎ যদি প্রয়োজন হয় এবং দেখা যায় যে ‘সি ইজ রেডি টু ফ্লাই’, তখন তাকে নিয়ে যাওোর ব্যাপারে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’বলে শুক্রবার জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে গোটা দেশবাসীর কাছে জানাতে চাই যে, স্বাভাবিকভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং তার অসুস্থতায় মানুষ সবাই সব মানুষই উদ্বিগ্ন উৎকণ্ঠিত। অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে করে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রত বোধ করছেন। তাদের চিকিৎসা কার্য চালাতে, ম্যাডামেরটাও এবং একই সঙ্গে অন্যান্য যারা রোগী আছেন তাদেরটাও, বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আমি সংশ্লিষ্ট সবার কাছে অনুরোধ জানাতে চাই যে, আপনারা কেউ দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। অনুগ্রহ করে বিএনপি নেতাকর্মী, তার শুভাকাঙ্ক্ষী বা দেশের মানুষ, দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। আমরা সময় মতো আপনাদের তার হেলথ সম্পর্কে জানাব, সেটা আপনারা জানবেন। কিন্তু, আবার অনুরোধ করছি, দয়া করে কেউ সেখানে উপস্থিত হবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সাধারণ সম্পাদক একে এম কামরুজ্জামান নান্নু এবং বিজয়ের রোড শো কর্মসূচি উদযাপন কমিটির সদস্য জুবায়ের বাবু উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

রোরবার রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকার বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। গত রোববার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা জানান, খালেদা জিয়ার হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

হাসপাতালে ভিড় না করতে নেতাকর্মীদের অনুরোধ

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাকে দেখতে দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের হাসপাতালে ভিড় না করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে রিজভী বলেন, অসুস্থ দেশনেত্রীকে দেখতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষজন হাসপাতালে ভিড় করছেন। দেশনেত্রীর প্রতি মানুষের আবেগ ও শ্রদ্ধার ফলশ্রুতিতেই মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, এ অবস্থায় হাসপাতালে দেশনেত্রীর খোঁজখবর নিতে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের কারণে দেশনেত্রীসহ অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে।

এ কারণে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের এভার কেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান রিজভী।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *