তারেক রহমান দেশে আসতে চাইলে এক দিনে ট্রাভেল পাস 

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে অন্তর্বর্তী সরকার এক দিনের মধ্যেই ট্রাভেল পাস ইস্যু করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, লন্ডনে তারেক রহমান কোন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তবে দেশে ফিরতে চাইলে কোনো দেশ তাকে আটকে রাখবে—এটিকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা নির্ধারণ’ শীর্ষক সেশনে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তৌহিদ হোসেন বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে প্রতিবেশী ভারত নিজেদের মানিয়ে নিতে সময় নিচ্ছে। তবে আশা করা হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর কর্মসম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য আসেনি। তাকে ফেরত আনার বিষয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনি ভারত তাকে ফেরত না দিলেও ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। দণ্ডিত হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ দ্রুত সময়ে দেশে ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও দেশে ফেরা প্রসঙ্গে নিজের ফেসবুক ভেরিফায়েড পাতায় একটি স্ট্যাটাস দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। 

দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মত তাঁদের উচ্চ মানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্খা ব্যক্ত করা হয়েছে।

সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।

এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *