মাদুরো আটক, যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালায় মার্কিনিরা। এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে আটক করে ডেল্টা ফোর্স। এটি দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, যেহেতু মাদুরোকে আটক করা হয়েছে তাই ভেনেজুয়েলায় আর কোনো হামলা চালানো হবে না।

অপরদিকে আটককৃত মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এখানেই হবে তার বিচার।

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির পর, তার ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ চাইলেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো বা ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস কোথায় আছেন এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার এখনও জানেনা বলেও নিশ্চিত করে বলেন, সরকার তাদের উভয়েরই ‘তাৎক্ষণিক জীবিত থাকার প্রমাণ’ দাবি করেছে।

মাইক লি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে লিখেছেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ধারণা দিয়েছেন, মাদুরো যেহেতু এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, তাই ভেনেজুয়েলায় আর হামলা চালানো হবে না। মাদুরোকে আটকের ওয়ারেন্ট যারা বাস্তবায়ন করতে গিয়েছিলেন তাদের রক্ষায় ভেনেজুয়েলায় মধ্যরাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।’’

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ মাদুরো ভেনেজুয়েলায় একটি মাদক সাম্রাজ্য চালান। সেখানে মাদক উৎপাদন করে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এ কারণে মাদুরোর বিরুদ্ধে ২০২০ সালেই পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তাকে গ্রেফতার বা আটকে সহায়তা করলে ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, মাদুরোকে আটক করেছে ডেল্টা ফোর্স। এটি দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট।

ভেনেজুয়েলায় পরবর্তীতে কী হবে সেটি এখনো অস্পষ্ট। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, মাদুরোর সেনাবাহিনী কোনো আলোচনা ছাড়া হয়ত ক্ষমতা ছাড়তে চাইবে না। এছাড়া প্রেসিডেন্টকে ধরে নিয়ে যাওয়া এবং হামলার ব্যাপারে সেনাবাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

মাদুরোর জায়গায় ক্ষমতায় বসতে চান বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এ নারী নিজের অবস্থানকে মাদুরোর জায়গায় প্রতিস্থাপন করেছেন। মাচাদোর আশা পশ্চিমাদের সমর্থনে তার নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলায় সরকার গঠিত হবে। কিন্তু মাদুরোর বিরুদ্ধে যারা কাজ করেন তাদের বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরোধীতা করেন।

এছাড়া শাভেসিমো মুভমেন্ট, যেটির বর্তমান নেতা নিকোলাস মাদুরো, তারাও ভেনেজুয়েলায় এখনো বেশ জনপ্রিয়।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভেনেজুয়েলা এখন গৃহযুদ্ধ অথবা বিপর্যয়কর দ্বন্দ্ব পর্যবসিত হতে পারে।

এরআগে, আজ শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোেরণের শব্দ শোনা যায়। এ সময় বিভিন্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। সিএনএনের সাংবাদিক ওসমারি হার্নান্দেজ বলেন, ‘একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, আমার জানালার কাঁচ কাঁপছিল।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারাকাসে বিকট শব্দের পাশাপাশি যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। শহরের দক্ষিণ অংশে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতে শহরের আলোঝলমলের মধ্যে আকাশে দুটি ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। অন্য একটি স্থানে আলোর ঝলকানির পরপরই বিকট শব্দ শোনা যায়।

সিবিএস নিউজ জানায়, কারাকাসে বিস্ফোরণ সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত রয়েছেন। ট্রাম্প নিজেই ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনাসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা হয়েছে। এর ফলে মাদুরো দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় যা বলল রাশিয়া

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়েছে। এটা উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলাকে ন্যায্যতা দিতে যে অজুহাত দেখানো হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে আমাদের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছি।’

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কোনো রুশ নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকায় রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিতি। তবে এখনো কারাকাসকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি ক্রেমলিন।

এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো দেশজুড়ে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন।

স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া একটি ভিডিও ভাষণে, আজকের এই মার্কিন হামলাকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বাজে আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ।

এসময় দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

ভেনেজুয়েলা মাদুরোর নির্দেশ অনুসরণ করছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে কিন্তু তারা আমাদের দমন করতে পারবে না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

ভেনেজুয়েলা সরকার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে ‘আগ্রাসন’ চালিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘সামরিক আগ্রাসন’ প্রত্যাখ্যান করছে। এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এই হামলাকে তার দেশের তেল ও খনিজ সম্পদ কেড়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা করেছেন।

ভেনেজুয়েলা সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগওয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে মোতায়েন করেছেন।

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নতুন ঘোষণা

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো দেশজুড়ে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন।

স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া একটি ভিডিও ভাষণে, আজকের এই মার্কিন হামলাকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বাজে আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ।

এসময় দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

ভেনেজুয়েলা মাদুরোর নির্দেশ অনুসরণ করছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে কিন্তু তারা আমাদের দমন করতে পারবে না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *