তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■ 

ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তিনি নিজেই এ কথা জানিয়েছেন।

তাসনিম জারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আজমল হোসেন বলেন, মোট ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৩০০ জনের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। সেটা ঠিকই ছিল। বরং কিছু বেশি ভোটারের স্বাক্ষর ছিল। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে নাম দেওয়া ১০ জনের মধ্যে ৮ জন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। বাকি ২ জন ওই আসনের ভোটার না হওয়ায় নির্বাচনবিধি অনুযায়ী তাঁর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তাঁর (তাসনিম জারা) আপিলের সুযোগ আছে।

দুইজন ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে গরমিল পাওয়া গেছে জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, আমি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যে মনোনয়ন আবেদন পত্র দিয়েছিলাম, সেটা আপাতত গৃহীত হয়নি। কিন্তু আমরা আপিল করব। আপিল করার প্রক্রিয়া আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করেছি। কারণ হিসেবে যেটা নির্বাচন কমিশন বলেছে, আপনারা জানেন যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য বিধি অনুযায়ী এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিতে হয়। সেই এক শতাংশ ভোটারের সংখ্যা যা হয়, তার চেয়ে আমরা বেশি স্বাক্ষর সাবমিট করেছি। প্রায় ২০০ মতো বেশি ছিল। সেখান থেকে উনারা ১০ জনের ভেরিফিকেশন করতে গিয়েছেন, সত্যতা যাচাই করতে গিয়েছেন। সেখানে আটজনের তথ্য সঠিক পেয়েছেন। দুইজনের ক্ষেত্রে উনারা মানুষটাকে খুঁজে পেয়েছেন, সত্যতা যাচাই করতে পেরেছেন। কিন্তু সেই দুইজন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার ছিলেন না। উনারা জানতেন ঢাকা-৯ এর ভোটার। একজনের বাসায় খিলগাঁও। খিলগাঁও যেহেতু ঢাকা-৯। উনি জানতেন যে ঢাকা-৯ এর ভোটার। তার জানার কোনো উপায় ছিল না, যে সে ঢাকা-৯ এর ভোটার না।

তিনি আরও বলেন, দুইজনের ক্ষেত্রেই তাদের জানার কোনো উপায় ছিল না যে তারা কোন এলাকার ভোটার। আর ঢাকা-৯ এর ভোটার না। উনারা জানতেন যে ঢাকা-৯ এর ভোটার। সে অনুযায়ী উনারা স্বাক্ষর দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন কোনো উপায় রাখে নাই। ভোটারদের জানার জন্য যে তারা কোন আসনের ভোটার।

তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দলটি ছাড়েন তিনি। এরপর ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

পেশা হিসেবে চিকিৎসকের পাশাপাশি শিক্ষকতা ও উদ্যোক্তার কথা উল্লেখ করেছেন তাসনিম জারা। ৩১ বছর বয়সী তাসনিম জারা আয়ের মূল উৎস হিসেবে চাকরির কথা উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় তিনি বলেছেন, দেশের ভেতরে চাকরি করে বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা আয় করেন। দেশের বাইরে থেকে তাঁর আয় হয় ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী, তাসনিম জারার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা। তাঁর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ১৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ২৭০ পাউন্ড, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১০ হাজার ১৯০ টাকা এবং আড়াই লাখ টাকা মূল্যের সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমার বিবরণীতে তাসনিম জারা বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা আয় দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকা। আর আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা।

হলফনামায় তাসনিম জারা নির্ভরশীল হিসেবে স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন। খালেদ সাইফুল্লাহ পেশায় একজন উদ্যোক্তা। তাঁর দেশের ভেতরে কোনো আয় নেই। তবে দেশের বাইরে বছরে ৩৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড আয় করেন। আর শেয়ার, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় করেন ৪ হাজার ৮০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *