যেভাবে ট্রাম্পের চক্ষুশূল হয়ে উঠেন নিকোলাস মাদুরো

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■ 

বামপন্থী নেতা হুগো শ্যাভেজের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন নিকোলাস মাদুরো। একসময় তিনি বাস চালাতেন, ছিলেন শ্রমিক নেতা। শ্যাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন। পরে ভেনেজুয়েলার বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনে ধীরে ধীরে প্রভাবশালী নেতা হয়ে উঠেন। একপর্যায়ে মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেন আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের। বন্ধু হওয়ার পরিবর্তে শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ে দেশ দুটি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চক্ষুশূল হয়ে উঠেন নিকোলাস মাদুরো।

শ্যাভেজ সরকারের আমলে মাদুরো প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। শ্যাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে তাকেই মনোনীত করা হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো নিজেকে ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক প্রকল্পের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচক এবং বারবার অভিযোগ করে আসছেন, ওয়াশিংটন তার সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অভ্যুত্থানচেষ্টা, অর্থনৈতিক নাশকতা ও নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলো মাদুরোর বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী শাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

২০১৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে- পরের বছর অর্থাৎ, ২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলার আইন পরিষদ সংবিধান পরিবর্তন করে এবং মাদুরো জোর করে ক্ষমতা দখল করেন।

২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টির বেশি দেশ নিকোলাস মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মানতে নারাজ।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভেনেজুয়েলায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনেও ক্ষমতা ধরে রাখেন মাদুরো। নির্বাচনে বিরোধীরা দাবি করেছিল তাদের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ বিপুল ভোটে জিতেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এই নির্বাচন মেনে নেয়নি। তারা গঞ্জালেজকেই ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু সেনাবাহিনী ও পুলিশ মাদুরোর হাতে থাকায় তিনি ক্ষমতা ছাড়েননি। ওদিকে গ্রেফতারের ভয়ে গঞ্জালেজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ- মাদুরো তার দেশের জেলখানা আর পাগলা গারদ খালি করে অপরাধীদের আমেরিকায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আরেকটা কারণ হলো মাদক। ট্রাম্প ফেন্টানিল ও কোকেনের প্রবেশ ঠেকাতে চান। তিনি ভেনেজুয়েলার দুটি অপরাধী দলকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করেছেন। তার দাবি, এর একটির নেতা খোদ মাদুরো। মাদুরো অবশ্য এসব অস্বীকার করে বলেন, ‘আমেরিকা মাদক যুদ্ধের বাহানায় আসলে আমাকে সরিয়ে ভেনেজুয়েলার তেলের খনি দখল করতে চায়।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *