তেহরানেই এক রাতে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■

ইরানে বিক্ষোভ চলাকালে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই এক রাতে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলন তীব্র হয়। এ সময় বিক্ষোভাকারীর সহিংস হয়ে উঠেন। এর জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক গুলি ছোড়ে। 

টাইম ম্যাগাজিন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নাম গোপন রাখার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, শুধুমাত্র তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে ২০৬ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগ গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

সাময়িকীটি বলেছে, যদি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয় তাহলে ধারণা করা যায়, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরসঙ্গে একটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতাকে উপেক্ষা করা হবে। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে খামেনি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন পর্যন্ত ৩১টি শহরে ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের তীব্র আন্দোলনের পর শুক্রবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ তেহরানসহ অন্যান্য জায়গায় জড়ো হয়েছেন।

ওই চিকিৎসক টাইমস ম্যাগাজিনকে বলেছেন, শুক্রবার হাসপাতাল থেকে এসব মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। নিহতদের বেশিরভাগ তরুণ বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।

তবে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে টাইমস ম্যাগাজিন।

বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে চাইছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে চায়। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘গোলমালকারী’ বলে আখ্যা দেন।

ইরানে টানা ১৩ দিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার মান কমে যাওয়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মানুষ রাস্তায় নেমেছে। অনেক বিক্ষোভকারী সরকার ও মোল্লাতন্ত্রের পতন চাইছেন, কেউ কেউ রাজতন্ত্র ফেরানোর কথাও বলছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৪৮ থেকে ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। দেশজুড়ে এখনো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে।

খামেনি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না এবং ‘ধ্বংসাত্মক উপাদান’ কঠোরভাবে দমন করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বড় বিপদে আছে। বিক্ষোভকারীদের ক্ষতি করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি, যদিও সরাসরি সেনা পাঠানোর কথা বলেননি।

এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি প্রাণহানির নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘও উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। 

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *