ঢাকায় পৌঁছেছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন তার স্ত্রী ডিন ডাওকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি এ সফরে এলেন।

ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য গৌরবের। 

এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রাখি। 

আমার স্ত্রী ও আমি এমন একটি দেশে ফিরে এসে আনন্দিত, যেখানে আমাদের বহু প্রিয় স্মৃতি জড়িয়ে আছে।’

তিনি সর্বশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। 

এ সময় তিনি বৈশ্বিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, নিরাপত্তা সহায়তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং অস্ত্র বিস্তাররোধ কার্যক্রম তদারকি করেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের একজন ক্যারিয়ার কর্মকর্তা। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডারের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে এবং ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার বিদেশি নিয়োগগুলোর মধ্যে ফিলিপাইন, এল সালভাদর ও ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনগুলোতে দায়িত্ব পালনও রয়েছে।

দুই দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ওয়াশিংটন ও বিদেশে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মার্কিন রাজনৈতিক-সামরিক ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর দপ্তরের উপপরিচালক, উত্তর কোরিয়া নীতির জন্য বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী এবং যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক উপকমিটিতে পিয়ারসন ফেলো হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

ক্রিস্টেনসেন ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের ‘ডিস্টিংগুইশড’ গ্র্যাজুয়েট ক্রিস্টেনসেন ২০২২ সালে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স করেন। এছাড়া টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি থেকে পরিসংখ্যানে মাস্টার্স এবং রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে তার।

স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় কথা বলতে পারেন এই কূটনীতিক, ফরাসি, জাপানি ও পর্তুগিজ ভাষাও শিখেছেন।

২০০২ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার আগে হিউস্টন ও নিউ ইয়র্কে ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে কাজ করতেন ক্রিস্টেনসেন।

অক্টোবরে সেনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বলেছিলেন, চীন এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজে কী ধরনের ‘ঝুঁকি’ রযেছে, তা বোঝাতে বাংলাদেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবেন তিনি।

শুনানিতে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন,“বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ হলেও বড় প্রতিবেশীদের ছায়ায় পড়ে থাকায় বাংলাদেশ যথাযথ মনোযোগ পায় না। ফরেন সার্ভিসের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ নীতি নিয়ে ২০ বছরের বেশি সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে, যার মধ্যে এর আগে ঢাকায় কাজ করাও রয়েছে।

“ফলে আমি দেশটির গুরুত্ব এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের তাৎপর্য ভালোমতো বুঝি। কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ অবাধ, নিরাপধ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হয়ে উঠেছে।”

বাংলাদেশ এখন ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি সেদিন বলেন, “২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিক্ষোভ ১৫ বছর শাসনকারী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। নতুন সরকার এবং নতুন পথনির্দেশ পেতে আগামী বছরের শুরুতে ভোট দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ, যা হবে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচন।

“উজ্জল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের যাত্রায় বাংলাদেশকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিশ্চিত হলে, আমি ঢাকায় দূতাবাসকর্মীদের নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কাজ করব।”

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, রাষ্ট্রদূত হলে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক উন্নতি, বাণিজ্য বাধা ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণে কাজ করবেন তিনি।

সম্পর্কিত লেখা:

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *