■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা এই দাবি করেন।
ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মী উভয় পক্ষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ‘সন্ত্রাসীরা’। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ আর কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ছোট ছোট বিক্ষোভ থেকে ইরানে বড় বিক্ষোভের শুরু হয়। মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের দরপতনে ক্ষুব্ধ দেশটির তরুণ জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ।
গত বৃহস্পতিবার পরিস্থিতির অবনতি হয়। ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহ’র ছেলে রেজা পাহলভি সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদের ডাক দিলে রাস্তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর আসতে থাকে।
ইরান সরকার এই অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। দেশটি বলছে, তথাকথিত সন্ত্রাসীরা এই আন্দোলন দখল করে নিয়েছে।
বিবিসি পার্সিয়ানকে তেহরানের এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুক্রবার ইরানের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ।
সেদিন অবিশ্বাস্য রকমের ভিড় ছিল, আর ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার রাত থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত।’ একজন ইরানি সাংবাদিকের ভাষায়, ‘এখন রাস্তায় নামা মানে মৃত্যুকে আহ্বান করা।’
ইরানের এবারের সংকট শুধু দেশের ভেতরের বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাইরের চাপও।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আর এটি তিনি দিচ্ছেন এমন এক সময়ে, যখন মাত্র সাত মাস আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। ওই সংঘাত ইরানের শাসনব্যবস্থাকে স্পষ্টভাবে দুর্বল করে দেয়।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই পরিস্থিতি ইরানের হাতে আরেকটি তাস তুলে দিয়েছে। ইরান এখন আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহী।
