২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক‍্যের

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■ 

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আসন সমঝোতায় ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক‍্য।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জোটের পক্ষ থেকে এ আসন সমঝোতার ঘোষণা দেন।

ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) ৭, আমার বাংলাদেশ পার্টি(এবি পার্টি) ৩, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২ ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২। 

এর বাইরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য আসন চূড়ান্ত করা হয়নি। চূড়ান্ত হয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আসন সমঝোতার বিষয়টিও।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের প্রাথমিক বক্তব্যে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এবারের নির্বাচনটি অতীতের নির্বাচনগুলোর মতো নয়, এটি আমরা জানি। অতীতের নির্বাচনগুলো ছিল মূলত ক্ষমতার পালাবদলের জন্য— যে দল বেশি ভোট পাবে তারা ক্ষমতায় যাবে। কিন্তু এবারের নির্বাচনটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন। জুলাই বিপ্লব রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এটি একটি সংগ্রাম। এই নির্বাচন মূলত সংস্কার ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অর্জনের মাধ্যমে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার নির্বাচন। সুতরাং, নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই নির্বাচনে আমাদের ঐক্যবদ্ধতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের (সিরিয়াসলি) সঙ্গে বিজয়ী করা আপনাদের ওপর একটি নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে নানা দর্শনে বিশ্বাসী এতগুলো দল মিলে এর আগে কখনো এত বড় জোট গঠন করেনি। এটি সব মতকে ধারণ করেছে, যা জাতীয় ঐক্যের একটি মডেল এবং ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করবে। আমরা বলেছিলাম যে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’তে অগ্রসর হব। অর্থাৎ, এই জোটে অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্য থেকে প্রতিটি আসনে মাত্র একজন অভিন্ন প্রার্থী থাকবেন। সেই নীতি ধারণ করেই আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি।

তাহের বলেন, আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আসন বণ্টনের ব্যাপারে একমত হয়েছি। ছোটখাটো দুই-একটা জায়গায় কিছু অস্পষ্টতা বা সমস্যা এখনো রয়ে গেছে, তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের (উইথড্রল) আগেই সেগুলো চূড়ান্ত করতে পারব।

বাকি ৪৭টি আসনে ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাকি আসনগুলোর বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আরও যারা আছেন, আমরা আশা করি তারাও ঐক্যমতের ভিত্তিতে আমাদের সঙ্গেই থাকবেন। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাকি আসনগুলোর বিষয়ে পরবর্তীতে আপনাদের বিস্তারিত অবহিত করব।

রাত আটটায় এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করাসহ যাবতীয় প্রস্তুতিও শুরু হয় ঘণ্টাখানেক আগে। তবে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে আসেন ৮টা ৪০ মিনিটে। সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জোট ভাঙেনি, জোট আছে। কোনো একটা দল যে কারণেই হোক একমত হলো না। এর মানে তো জোট ভাঙা নয়। এটি আসলে জোটও নয়, নির্বাচনী ঐক্য।

ইসলামী আন্দোলনের নাম উল্লেখ না করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি দল সূচনায় আমাদের সঙ্গে ছিল, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে না। এটা ভাঙনের কোনো ব্যাপার নয়। তাঁরা নিজেদের নিয়ে আরও বোঝাপড়া করছেন৷ তাঁদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তাঁরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। আমরা আশা করছি, তাঁরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’

এদিকে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দলের অবস্থান জানাতে আগামীকাল শুক্রবার বেলা তিনটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ইসলামী আন্দোলন। ঢাকার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে রাত সাড়ে আটটার দিকে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ১০ দলের নেতারা হাতে হাত ওপর তুলে ধরে ঐক্যের বার্তা দেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল গতকাল বুধবার। গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় ওই সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও পরে স্থগিত করা হয়। মূলত সমঝোতায় আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পরে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা৷ এই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন ছিল না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *