বিএনপির সাথে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত

■ শেরপুর প্রতিনিধি ■

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে আহত জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা রেজাউল করিম মারা গেছেন। বুধবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বসার আসন নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবির প্রভাষক ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মন‌সিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প‌থে রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর–৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও সমর্থকেরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় সভামঞ্চের সামনে থাকা কয়েক শ চেয়ার ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় দুই দলের অন্তত ৩০ নেতা–কর্মী আহত হন। হামলায় গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবন‌তি হ‌লে উন্নত চি‌কিৎসার জন্য রা‌তে ময়মন‌সিংহ মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে নেওয়ার প‌থে তিনি মারা যান।

শেরপুর–৩ আসনে জামা‌য়া‌তের প্রার্থী নুরুজ্জামান (বাদল) ফেসবুকে এক পোস্টে জামায়াত নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকদের বর্বরোচিত হামলায় আমাদের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আমাদের ৫০ জনেরও বেশি নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান জানান, বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে বেলা ২টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে এসে দেখেন বসার ৫০০ চেয়ারের সবগুলোতে জামায়াত-শিবির কর্মীরা দখল করে নিয়েছে। এসময় তারা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করে তাদের জায়গা করে দিতে বলেন। ইউএনও এসময় মঞ্চে উপস্থিত জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান। জামায়াত প্রার্থী তাদের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানালেও তার কথা কেউ কানে তোলেনি। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কর এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন। এতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, যুবদলের উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ ২৫-৩০ জন আহত হন। 

তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানস্থলে জামায়াত শিবিরের ৮০০-১০০০ নেতাকর্মী ছিলেন। তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা করে রড-লাঠিসোটা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। আমরা মনে করেছি, ইস্তেহার পাঠ অনুষ্ঠানে এত লোকের প্রয়োজন নেই।  

বিএনপি নেতার এ দাবি নাকচ করে শেরপুর-৩ আসনের (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কিন্তু তারা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যেতে পারছেন না। সেখানে বিএনপির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বসে আছেন। 

এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিকেল ৫টার দিকে ঝিনাইগাতী বাজারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। এসময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা বিএনপির নিরীহ, শান্ত নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি এ সময় কাউকে আইন হাতে না তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

কিন্তু সভা শেষে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল। এসময় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী সংঘর্ষে থামাতে চেষ্টা করছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বেই বসা নিয়ে বাক-বিতণ্ডার জেরে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। 

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *