সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের সর্বোচ্চ মুনাফা ৯.৫ শতাংশ

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক তার গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদে হলে ৯ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমানতের বিপরীতে সব গ্রাহককেই ব্যাংকটি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ নেওয়ার সুযোগ রেখেছে। কারও যদি ২০ কোটি টাকা জমা থাকে, তাহলে তিনি চাইলে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এতে গ্রাহকের তারল্যের সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এসব তথ্য দেন। সম্প্রতি ব্যাংকটি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতেই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গভর্নর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের মূল আমানত পুরোপুরি সুরক্ষিত, তবে তা পর্যায়ক্রমে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিছু অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। সেগুলো পরিষ্কার করতেই আজকের এই সভা। একসঙ্গে গ্রাহক টাকা তুলতে না পারার ব্যাখ্যাও দেন গভর্নর। তিনি বলেন, হঠাৎ করে সব গেট খুলে দিলে গ্রাহক একসঙ্গে তাঁর সব আমানত তুলে নিতে পারেন। এটা স্লুইসগেটের মতো, আস্তে আস্তে খুলতে হয়। আমানত তুলতে হবে নিয়ন্ত্রিতভাবে।

ড. মনসুর জানান, শুরুতে ডিমান্ড ডিপোজিট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং স্বল্পমেয়াদি দুটি স্কিমের টাকা উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আওতায় আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা তুলতে পারছেন। তবে এর কম থাকলে পুরো টাকাই তুলতে পারছেন। তবে গত বুধবার থেকে ফিক্সড ডিপোজিট, মানি স্কিমসহ সব ধরনের স্কিম থেকেই টাকা তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এর যেকোনো স্কিম থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত টাকা তোলা যাচ্ছে। মেয়াদপূর্তির ক্ষেত্রে আমানত রোলওভার হবে এবং মুনাফাও পর্যায়ক্রমে তোলা যাবে। এত দিন কম্পিউটার ও মুনাফা হিসাবসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে এই প্রক্রিয়ায় আসতে একটু দেরি হয়েছে, তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

গভর্নর জানান, পাঁচটি ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেম একীভূত করা একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব ভেন্ডরের লাইসেন্স ইতিমধ্যে নবায়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে অনলাইন সেবা, আরটিজিএস ও এটিএম কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। গভর্নর আশা প্রকাশ করেন, শিগগির সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মাসিক ডিপোজিট স্কিমের বিপরীতে আমানতকারীরা মাসভিত্তিক মুনাফা তুলতে পারবেন।

গভর্নর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে একটি দুষ্টুচক্র গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সব আমানতকারীর মূল আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। পর্যায়ক্রমে সবাই তাদের টাকা ফেরত পাবেন। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আমানতকারীদের অভিযোগ সরাসরি গ্রহণের জন্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক একটি হটলাইন চালু করবে বলে জানান গভর্নর।

উল্লেখ্য, ঋণ কেলেঙ্কারি ও নানা অনিয়মের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে।

এই পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। আর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যার ৭৭ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *