■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গত এক সপ্তাহে সারা দেশে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে ৫০৪ জনকে আটক করা হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে,দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনে ইউনিটগুলো অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ওই যৌথ অভিযান চালায়।
এসব যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত, ডাকাত সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারিসহ মোট ৫০৪ জন অপরাধীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানকালে আটকদের কাছ থেকে ৪৮টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৭৫ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি, ৯৫টি ককটেল, দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আটকদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় তাদের হস্তান্তর করা হয়।
আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশব্যাপী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত টহল কার্যক্রম ও নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। যে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দেখলে তা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করার জন্য সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করেছে আইএসপিআর।
লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরে সেনা টহল জোরদার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীর লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের অধীন ‘অজেয় চার’র আজিমপুর আর্মি ক্যাম্প ও কামরাঙিরচর আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে ঢাকা–৭ সংসদীয় আসনের কামরাঙ্গীরচর ও লালবাগ এলাকায় টহল পরিচালনা করা হয়।
ওই দুই সেনা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক টহল পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে টহল বা পেট্রোল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এই পেট্রোলে প্রায় ১২০ জন সেনাসদস্য অংশগ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, যা অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে, যা ভোটারদের নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করবে। সেনাবাহিনীর এ ধরনের নিয়মিত ও দৃঢ় উপস্থিতি এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন তারা।
