নির্বাচনে বিজয়ী যে ৭ নারী

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থান নিশ্চিত করেছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে এখন পর্যন্ত দলটির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১৮১টিতে।

এই ১৮১ বিজয়ীর মধ্যে বিএনপির ৬ নারী প্রার্থী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাচ্ছেন। এছাড়া একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাতজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপি থেকে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। আর একজন বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। একপর্যায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিজয়ী নারী প্রার্থীরা হলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

তাদের মধ্যে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ২০০১ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একাদশ সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী কোটায় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

৫২ বছর পর বিএনপি’র মতো বড় একটি রাজনৈতিক দলকে চ্যালেঞ্জ করে পিতার হারানো আসন উদ্ধার করলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে তিনি বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে পরাজিত করে গড়লেন ইতিহাস। ফলাফলের কাগজ হাতে নিয়েই তিনি সোজা চলে দাদা-দাদির কবরের পাশে। আনন্দে ভাসছে সরাইল- আশুগঞ্জ চান্দুরা ও বুধন্তির লোকজন। প্রিয় সমর্থকদের অভিনন্দন আর ফুলেল শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। পারিবারিক সূত্র জানায়, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছিলেন। জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। মনোনয়ন দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে। এতে ক্ষুদ্ধ হন রুমিন। দলীয় জোটের প্রার্থী রেখেই হন স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রতীক নেন হাঁস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জুনায়েদ আল হাবীবের প্রতীক খেজুরগাছ। দলের সিদ্ধান্ত হওয়ায় জেলা- উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা খেজুরগাছের পক্ষে মাঠে নেমে পড়েন। পদধারী ও পদবঞ্চিত অনেক নেতা আবার রুমিনের পক্ষে কাজ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।

নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের এ জয়কে দলটির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *