জামায়াত কোথায় ধরাশায়ী, কোথায় বাজিমাত করল

■ মাহফুজ চৌধুরী ■

হরিকেল, সমতটে ও বঙ্গের মূল ভূখণ্ডে জামাত ১২ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন সংখ্যায় খুব সম্ভবত কোন রকমে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছে। যা ঐ অঞ্চলের মোট আসন সংখ্যার দশ শতাংশেরও কম।

অন্যদিকে রাঢ়বঙ্গে ও গৌড়ে তারা পঞ্চাশোর্ধ্ব আসন জিতেছে যা মোট আসনের অর্ধেকের বেশি।

এই যে ঢাকায় ও পূর্ববঙ্গে তারা জান্নাত বেচতে ব‍্যর্থ তার রাজনৈতিক কারণ খুঁজব না এখানে। আমি বোঝার চেষ্টা করেছি আর্থ সামাজিক অবস্থা। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে জামাতের প্রভাব কম হওয়ার কারণগুলি এক নজরে-

ক. কওমী মাদ্রাসা বেশি আলিয়া মাদ্রাসা কম

খ. তাবলিগ ও মাজারপন্থী লোক বেশি

গ. মানুষ ধর্ম সম্পর্কে বেশি সচেতন

ঘ. অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল

ঙ. উচ্চ শিক্ষার হার বেশি

চ. মানুষ অপেক্ষাকৃত চালাক চতুর

ছ. রাজনীতি সচেতন

জ. প্রবাসী বেশি

ঝ. শহরাঞ্চল বেশি

এভাবে আপনি কখন একটা মানুষকে প্রভাবিত করতে পারবেন যদি ধর্মীয় ব‍্যপারে সে অজ্ঞাত থাকে। পূর্ব বঙ্গে বা ঢাকার মানুষ আগে থেকেই ধর্ম চর্চা করে, জানে। তাবলিগের কাজ চলে সারা বছর। কওমি মাদ্রাসার হুজুরদের সাথে বোঝাপড়া আর মাজারপন্থী লোকদের সাথে ওঠাবসার কারণে তাদের কাছে জান্নাত বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েছে জামায়াতে ইসলামি।

রাজশাহী বিভাগে সবচেয়ে বেশি আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলিয়া মাদ্রাসা আছে রংপুর বিভাগে। আর খুলনা বিভাগে চতুর্থ সর্বোচ্চ আলিয়া মাদ্রাসা। ঢাকা রাজধানী এবং সবচেয়ে জনবহুল হওয়া সত্ত্বেও আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যার দিক দিয়ে তৃতীয় (ব‍্যানবেইজ)।

অন‍্যদিকে কওমি মাদ্রাসা সবচেয়ে বেশি ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে। কোন প্রাতিষ্ঠানিক তথ‍্য নেই আমার কাছে। এটা আমার পর্যবেক্ষণ।

সবচেয়ে বেশি প্রবাসী রেমিট্যান্স আসে ঢাকা বিভাগে তারপর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। সর্বনিম্ন উত্তরবঙ্গের রংপুরে (২০১৪-২৫, বাংলাদেশ ব‍্যাংক)

অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার দিক থেকে যে কেউ বলবে পূর্ববঙ্গের মানুষের হাতে টাকা বেশি। তাদের বাড়িঘরও দেখবেন বেশি পাকা। যেহেতু প্রবাসী অর্থ আসে প্রচুর। ডেটা ছাড়াই বললাম নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে।

শিক্ষা বা স্বাক্ষরতার তথ‍্য একটু গোলমেলে। তবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ।

আর উত্তরবঙ্গের লোক সহজ সরল- কথাটা সর্ববিদিত।

যদি ওপরে তথ‍্যগুলি মেলান তাহলে যা দাঁড়ায় তা হচ্ছে যারা ধর্মীয় বিষয়ে আগে থেকে সচেতন, অন্য ধর্মীয় সংগঠন ও সম্প্রদায়ের প্রভাব উপস্থিত, মানুষের কাছে টাকা বেশি তাদের ভোট জামাত পায়নি বা কম পেয়েছে।

একটা ভিডিও দেখলাম গতকাল। একজন স্বাভাবিক পোষাকের এক অল্প বয়সী গৃহিনী বলছেন জামায়াতকে ভোট দেবেন। কারণ জানতে চাইলে বললেন, সওয়াব হবে। অনেক তো গুনাহ করেন বা করেছেন। অন্তত একটা সওয়াবের কাজ হিসেবে তিনি জামায়াতকে ভোট দেবেন।

এভাবে আপনি কখন একটা মানুষকে প্রভাবিত করতে পারবেন যদি ধর্মীয় ব‍্যপারে সে অজ্ঞাত থাকে। পূর্ব বঙ্গে বা ঢাকার মানুষ আগে থেকেই ধর্ম চর্চা করে, জানে। তাবলিগের কাজ চলে সারা বছর। কওমি মাদ্রাসার হুজুরদের সাথে বোঝাপড়া আর মাজারপন্থী লোকদের সাথে ওঠাবসার কারণে তাদের কাছে জান্নাত বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েছে জামায়াতে ইসলামি।

উত্তরবঙ্গ ও খুলনা বিভাগের মানুষ ধর্ম কর্ম কম বোঝে ও কম চর্চা করে। এখানে এত ইসলামি সংগঠন নেই। ওয়াজ মাহফিল অপেক্ষাকৃত কম। তাই জামাতের একচেটিয়া প্রভাব। তারা গিয়ে যখন বলে সওয়াব হবে, জান্নাত পাবেন, সাদামাটা লোকগুলো তাই বিশ্বাস করে।

উত্তরবঙ্গ ও সাতক্ষীরার মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতি হলে জামায়াতের ভোট কমে যাবে সামনে।

লেখক: চেস্টার, যুক্তরাজ্য

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *