ঈদের পর ৩ সিটি নির্বাচন ও উপনির্বাচন

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে একাধিক ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

ঈদুল ফিতরের পর অনুষ্ঠিত হবে শেরপুর-৩ আসনের স্থগিত নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন। একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রমও শুরু করতে চায় কমিশন।

মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন- এই তিন সিটির নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের ভোট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই তিন সিটির ভোট শেষ হলে পর্যায়ক্রমে বাকি নয়টি সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা এমনকি সরকারের সবুজ সংকেত পেলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও হতে পারে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ বড় সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো সেরে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য নির্বাচন আয়োজনেও হাত দেব।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ভুক্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি এখনও পায়নি ইসি। এরপরও চলছে তাদের আগাম প্রস্তুতি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।

আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন। সেই হিসাবে গত বছরের ১ জুন এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন। এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী, এই সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। এই তিন সিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে ইসি। ইসি সূত্র জানায়, চিঠি পাওয়ার পর কমিশন দ্রুত ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। চট্টগ্রাম সিটির জন্য সময় খুবই সীমিত থাকায় সেখানে পৃৃথক জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।

দেশের স্থানীয় সরকার কাঠামো দুটি ভাগে বিভক্ত। পল্লী বা গ্রাম অঞ্চল ও শহর অঞ্চল। পল্লী বা গ্রাম এলাকায় তিনটি স্তর। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ। আর শহর এলাকা দুটি ভাগে বিভক্ত। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে নেই কোনো জনপ্রতিনিধি। ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ এবং ৩৩০টি পৌরসভাও চলছে জনপ্রতিনিধি ছাড়া, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের খণ্ডকালীন দায়িত্বে। শুধু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে মেয়র রয়েছেন। তবে এখানেও নেই কোনো কাউন্সিলর। সব মিলিয়ে জনপ্রতিনিধিহীন অবস্থায় আছে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ, পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। এসব প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না দিলে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।

মাত্র চারদিন হলো নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সরকারও চাইছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির যে অভাবনীয় বিজয় সেটার রেশ থাকতে থাকতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে। অতীতে দেখা গেছে, সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নামলে এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। তাই সরকার চাইছে বুঝেশুনে পা বাড়াতে। এছাড়া বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী যারা সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মেয়র হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তারাও চান দ্রুত নির্বাচন হয়ে যাক।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *