■ নাগরিক প্রতিবেদন ■
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর নতুন সরকার গঠন করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। প্রধান উপদেষ্টার পদ বিলুপ্ত হওয়ায় দায়িত্ব শেষ হয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের।
ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সূত্র গণমাধ্যমে জানিয়েছে, তিনি যমুনা ছেড়ে গুলশানে নিজের বাসভবনে উঠবেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ স্থানান্তর সম্পন্ন হতে পারে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যমুনায় উঠতে পারেন। তবে এর আগে ভবনটিতে কিছু সংস্কারকাজ প্রয়োজন। সংস্কার সম্পন্ন করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। টানা ৫৫৯ দিন দায়িত্ব পালনের পর মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন। দায়িত্ব শেষের পর তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছাড়াই যমুনায় ফিরে যান।
এখন তিনি আগের পেশাগত কর্মকাণ্ডে ফিরতে পারেন। পাশাপাশি নবঅনুমোদিত গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়-এর কার্যক্রম তদারকিতেও যুক্ত হতে পারেন। দেশের ১১৬তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন পেয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী ড. ইউনূসের আরও তিন মাস যমুনায় বসবাসের সুযোগ থাকলেও তিনি যমুনা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে এরই মধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর পরই গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বৃহস্পতিবার যমুনা পরিদর্শন করে। তাঁর সঙ্গে গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, বিদ্যুতের নির্বাহী তাজিম মাশফিকসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
সন্ধ্যায় খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা দু-চার দিনের মধ্যেই বাসাটি ছেড়ে দেবেন। এরপর সেটাকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বসবাসের উপযোগী করতে এক মাসের মতো সময় লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত যমুনাতেই তিনি থাকবেন। সেভাবেই গণপূর্ত বিভাগ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য ব্যবহারের যে আলোচনা হয়েছিল, সেটা বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ যারা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হবেন, তাদের জন্যও তো বাসা লাগবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে যমুনাকেই প্রস্তুত করা হবে। এ জন্য এক মাস সময় লাগবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্থায়ী বাসভবনের একটি নকশা এরই মধ্যে প্রস্তুত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। এ ব্যাপারে স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নকশা করে দেওয়া হয়েছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে সরকার।
বিবিসি বাংলা সার্ভিসের খবরে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূস ব্যক্তিগত কাজ করছেন। ইউনূস সেন্টারে অফিস শুরু করবেন আগামী সপ্তাহ থেকে। থ্রি জিরো কনসেপ্ট নিয়ে নিয়মিত কাজ করবেন।
তাঁর থ্রি জিরো কনসেপ্ট হলো, শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণের ধারণা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া। তবে তিনি প্রকাশ্যে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে, অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশ কিছু সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে আমন্ত্রণপত্র জমা রয়েছে। আপাতত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাপান যাচ্ছেন। এর মধ্যে অন্য কোথাও যাচ্ছেন না। জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনব্যাপী ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। সেখান থেকে দেশেই ফেরার পরিকল্পনা আছে অধ্যাপক ইউনূসের।
