ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিবকে সম্মানী দেবে সরকার

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■

নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেবে বিএনপি সরকার। তবে এই সম্মানী কত টাকা তা এখনো নির্ধারণ করেনি সরকার। ঈদের আগেই কয়েকটি এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার দুপুরে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব কথা জানান।

মাহদী জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুকে সম্মানী ভাতা প্রদান করা। ক্ষমতায় এসে সেই ধারাবাহিকতায় সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা চালু হবে।

কত টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়া হবে জানতে চাইলে মাহদী বলেন, আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা চূড়ান্ত করা হবে। এ সময় স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম তাঁর পাশে ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেন, আজ ছিল তারেক রহমানের তৃতীয় কর্মদিবস। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সালেহ শিবলী বলেন, আজ তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন তারেক রহমান। অফিসে প্রবেশের আগে ব্রিফ করেছেন। অনেক পুরাতন কর্মজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পলিসি কার্যক্রম নিয়েও আজ আলোচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী বলেন, “এর পাশাপাশি বিএনপির একটি বড়ো নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল যে, সারা বাংলাদেশে মেধার ভিত্তিতে বৈষ্যমবিহীনভাবে যেন আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারি…সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে, বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এবং বহির্বিশ্বে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা আরও দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তুলতে পারি, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার কীভাবে আনব এবং তার মাধ্যমে আমাদের জনশক্তিকে কীভাবে কর্মক্ষম দ্রুততার সাথে তাদের জন্য চাকরি এবং ব্যবসার সুব্যবস্থা করতে পারব; তার জন্য যে ডিরেজুলেশন প্রয়োজন, তার জন্য যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার নীতিমালা প্রয়োজন রয়েছে সংস্কারের জন্য।“

তিনি বলেন, “টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনকে আরও কীভাবে প্রাধান্য দেব আমরা। বিদেশে যেসব দূতাবাস রয়েছে এবং বাংলাদেশে যেসব দূতাবাস রয়েছে, তাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কীভাবে আমাদের জনশক্তিকে আরও দক্ষ ও যোগ্য করে বিদেশে পাঠাতে পারব— এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

“সংশ্লিষ্ট যেসব মন্ত্রীবর্গ রয়েছেন, সচিববর্গ রয়েছেন উনারা উনাদের মূল্যবান মতামত দিয়েছেন এবং ইনশাল্লাহ খুব দ্রুততম সময়ের ভেতরে জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এ রাষ্ট্র ব্যবস্থা, জনগণের সরকার আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করা শুরু করব, ইনশাল্লাহ।”

এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারপ্রধান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়।

সম্পর্কিত লেখা:

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *