■ নাগরিক প্রতিবেদন ■
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের পর সংরক্ষিত ৫০ নারী আসন বণ্টনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য পেতে পারে ১৩টি আসন। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবেই পাবে ১১টি।
জামায়াত জোটের ১৩টি সংরক্ষিত আসনে যারা মনোনয়ন পাবেন, তাদের মেধা, যোগ্যতা, সংগঠনের দায়িত্ব-কর্তব্য ও অভিজ্ঞতাকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে। সেই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমল ও জুলাই আন্দোলনে তাদের ও তাদের পরিবারের ত্যাগকে বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য শাহান আরা বেগম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী।
এ ছাড়া সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা পারভীনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
অধ্যাপক নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, নারীরা দলের আমির হতে না পারলেও সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।
সংসদীয় আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত সদস্যরাই সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ভোট দেবেন। প্রতিটি দল বা জোট তাদের প্রাপ্ত সাধারণ আসনের অনুপাতে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারে। একক প্রার্থী থাকলে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয় না; তবে একাধিক প্রার্থী হলে ভোটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তরা নির্বাচিত হন। একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোনো জোটে যুক্ত হলে আসন পেতে পারেন, অন্যথায় বণ্টনের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, দলের মধ্যে আলোচনা আছে। পাশাপাশি জোট টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু কৌশলগত বিষয় আছে। এ জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।
নারী-পুরুষ মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সংখ্যা এক লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ পুরুষ ও ৪৩ শতাংশ নারী। মহিলা বিভাগে রয়েছেন প্রায় অর্ধলাখ সদস্য। পাশাপাশি প্রায় চার লাখ কর্মী এবং অসংখ্য সহযোগী সদস্য নিয়ে সারা দেশে মহিলা বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃত রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিপুলসংখ্যক মেধাবী, ইসলামি ও আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন।
এনসিপি সংরক্ষিত নারী আসনে একজনকে পাঠাতে পারবে। এই পদের জন্য আলোচনায় আছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতু।
