সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপির যেসব প্রার্থী আলোচনায়

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনেও ‘এক পরিবারে এক প্রার্থী’ নীতি অবলম্বন করবে বিএনপি। যেসব পরিবারে ইতোমধ্যে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি। 

এ ছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্ররাও সম্মিলিতভাবে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। আর তাদের যদি বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে বিএনপির নারী আসন দাঁড়াবে ৩৭টির মতো।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চায় ইসি। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বাদ পড়তে পারেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী ও মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুন অর রশীদের স্ত্রী আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ছাড়াও অনেকে এ তালিকায় থাকবেন। 

তবে দলের যেসব নারীনেত্রী বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের অনেককে উচ্চকক্ষে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। ফলে বিগত দিনের ত্যাগী আর যোগ্যদের মধ্য থেকেই এবারের সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় রয়েছেন যারা

সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনের নামও ঘুরছে আলোচনায়।

এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি ও রাবেয়া আলমের নামও শোনা যাচ্ছে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগরও আলোচনায় রয়েছেন।

এ ছাড়া ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমদের নামও এ তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।

চট্টগ্রামে আলোচনায় আছেন

বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ ও ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে দলটি ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। দলে বহু যোগ্য নেত্রী রয়েছেন, যারা মনোনয়নের আশায় সক্রিয় রয়েছেন। সবদিক বিবেচনা করেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কারা সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাবেন। তবে এবার তরুণ নেত্রীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনা বেশি বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পাঁচ দিন পার হলো গতকাল। নতুন জাতীয় সংসদের অধিবেশন এখনো ডাকা হয়নি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকতে হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তা করেন। এবারের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশিত হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে মনোনয়ন, বাছাই, প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য এখনো হাতে সময় আছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন। তাঁদের মধ্যে জয়ী হয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে ৬ জন বিএনপির, ১ জন স্বতন্ত্র। সংরক্ষিত ৫০টি আসন যুক্ত হলে সংসদে মোট নারী সদস্য হবেন ৫৭ জন, যা ৩৫০ সদস্যের সংসদে প্রায় ১৬ শতাংশ।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *