■ নাগরিক প্রতিবেদন ■
আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম (পাইলটিং) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কার্ডের আওতায় নির্ধারিত প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।
সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই পাইলটিং কার্যক্রমের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, “মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের আলোকে আজ (মঙ্গলবার) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে পাইলটিংয়ের একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা আগামী ১০ মার্চ ইনশাল্লাহ প্রধানমন্ত্রী পাইলটিংয়ের যে কার্যক্রম অর্থাৎ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের, সেটি উদ্বোধন করবেন।
“আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ১৪টি উপজেলাকে চুজ (নির্বাচন) করেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগ হিসাব করে। সেই ১৪টি জেলা উপজেলার মধ্যে থেকে একটা ইউনিয়নের একটা ওয়ার্ডকে আমরা ইউনিভার্সালি (সর্বজনীনভাবে) ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। সেটার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, আগামী ১০ মার্চ ঈদুল ফিতরের আগে ইনশাল্লাহ”।
তিনি বলেন, “ওইদিন একযোগে ১৪টি উপজেলার এ কার্যক্রমের সূচনা করা হবে এবং এটি চলতে থাকবে। এই কার্যক্রম ধীরে ধীরে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটার মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির পরিবারের মধ্যে যেসব পরিবারে মায়েরা প্রধান, তারা এই সুবিধা পাবেন।
“আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে করে আগামী প্রজন্ম স্বাবলম্বী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি” বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, “এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ এটার ওপর কাজ করেছেন এবং আজকে উনার সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এটি অনুমোদিত হয়েছে”।
জাহিদ হোসেন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে উনাদের (সুবিধাভোগী পরিবার) আর্থিকভাবে সহযোগিতা দেওয়া হবে। এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য হবে না। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য হবে”।
“আমরা আশা করছি, আগামী চার মাসের মধ্যে পাইলটিংয়ের (পরীক্ষামূলক) কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। পরবর্তী সময়ে সারা বাংলাদেশে আরও ব্যাপকভাবে প্রতিটি উপজেলা এটার আওতায় আসবে। প্রথমেই পুরো উপজেলা দেওয়া যাবে না। হয়তো প্রথমে একটি ওয়ার্ড, তারপর একটি ইউনিয়ন, তারপর আরেকটি ইউনিয়ন—এভাবে আমরা ধীরে ধীরে এটিকে বিস্তৃত করব” বলেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে কতজন নারী এটা পাচ্ছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “কয়জন হিসাবে না। একটি ওয়ার্ডে যে কয়জন পাওয়ার উপযুক্ত, ওই কয়জনই পাবেন”।
বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, “বাছাই করা হচ্ছে না। দ্বারে দ্বারে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই ঘরে বসে কোনো বাছাই হবে না। বাছাই হবে মাঠপর্যায়ে। কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না, কাউকে বাদ দেওয়া হবে না”।
