কিশোরীকে অপহরণের পর হত্যা, বিএনপি নেতাসহ গ্রেফতার ৫

■ নরসিংদী প্রতিনিধি ■

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা ও তাঁর ছেলেসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন— মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ নূরা এবং সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, আহম্মদ আলীর ছেলে ইমরান দেওয়ান এবং মো. এবাদুল্লাহ, আইয়ুব আলী, মো. গাফফার ও হযরত আলীকে।

কিশোরীর (১৫) বাড়ি বরিশালে। মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় মা-বাবার সঙ্গে সে থাকত। তার বাবা ও ভাই স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক।

নিহত কিশোরীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনার বিচারের জন্য কিশোরীর পরিবার স্থানীয় মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যান।

সাবেক ওই ইউপি সদস্য বিচার না করে উল্টো অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বিচার না করায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিশোরীকে তার খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ পথরোধ করে বাবার সামনে থেকেই তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাখেতে কিশোরীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। পরে পুলিশ কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে স্থানীয় মেম্বার ও বিএনপি নেতাসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে নামোল্লেখ করা ৯ জন আসামি হলেন, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক ওরফে ইছা (৪০), আবু তাহের (৫০) ও মো. আইয়ুব (৩০)। আহাম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউপির সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। তাকেসহ পাঁচ আসামিকে এই বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি চারজন হলেন ইমরান দেওয়ান, এবাদুল্লাহ, আইয়ুব ও গাফফার।

এদিকে অভিযোগ ওঠার পর আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলা বিএনপির এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আহাম্মদ আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এক ফেসবুক পোস্টে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *