প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিতে চান মোহন রায়হান

■ সাহিত্য ডেস্ক ■ 

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান। তবে এই পুরস্কারের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

মোহন রায়হান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই এ পুরস্কার নিতে চান।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মোহন রায়হান এ কথা বলেন।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এর জন্য মনোনীত হয়েছিলেন মোহন রায়হানসহ ৯ জন। গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত অন্যদের এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হলেও মোহন রায়হানকে দেওয়া হয়নি। নতুন সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তখন এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে আবার পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল শনিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানায়, মোহন রায়হানকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামীকাল ২ মার্চ তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মলেনে মোহন রায়হান বলেন, পুরস্কার প্রদানের আগের দিন পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ৪১ বছর আগে তাঁর রচিত একটি কবিতাকে অজুহাত করে তাঁর পুরস্কার স্থগিত করা হয়। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অথচ অন্যদের ডাকা হলেও তাঁকে আর ডাকা হয়নি। এই আচরণ শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, এটি মুক্তচিন্তার প্রতি অবমাননা।

এখন আবার পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে মোহন রায়হান বলেন, ‘এ ঘোষণার পর আমার পুরস্কার গ্রহণ বা বর্জন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক শুরু হয়। আমরা জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মত পুরস্কার গ্রহণের পক্ষে। যুক্তি ছিল, ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করা মানে অপশক্তিকে জয়ী হতে দেওয়া। আবার অনেকে মত দেন, এই অপমানের প্রতিবাদে পুরস্কার বর্জনই নৈতিক অবস্থান হবে। আমি গভীরভাবে ভাবলাম। আমি কোনো পদক বা অর্থের কাঙাল নই। জীবনের সায়াহ্নে এসে সামান্য স্বীকৃতি ও সম্মানের প্রত্যাশাই আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল।’

মোহন রায়হান বলেন, ‘আমি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে এই পুরস্কার গ্রহণ করছি।’

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মোহন রায়হান। তিনি বলেন, ‘আমি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই, নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই যেন আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পারি। যদি প্রয়োজন হয়, দিন পরিবর্তন করা হোক, কিন্তু প্রক্রিয়াটি মর্যাদাপূর্ণ হোক।’

কবি মোহন রায়হান বলেন, পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কার করা জরুরি। প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, দলনিরপেক্ষ, বিশেষজ্ঞনির্ভর ও সর্বজনগ্রাহ্য হওয়া উচিত, যেন ভবিষ্যতে কোনও বিতর্ক বা স্থগিতাদেশের পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

উদাহরণ টেনে মোহন রায়হান বলেন, প্রখ্যাত কবি শামসুর রাহমানকে ঘিরেও এক সময় স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে গণভবনে ডেকে সম্মান জানান। সেই উদারতার দৃষ্টান্ত অনুসরণের আহ্বান জানান কবি মোহন রায়হান।

তিনি অনুরোধ করেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই যেন তিনি পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেন। প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তন করলেও প্রক্রিয়াটি মর্যাদাপূর্ণ হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।

মোহন রায়হান বলেন, এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবু বিভাজনের চেয়ে ঐক্য, প্রতিহিংসার চেয়ে প্রজ্ঞা এবং অপমানের চেয়ে মর্যাদাকেই তিনি প্রাধান্য দিতে চান।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *