■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক আবদুস সালাম থেকে শুরু করে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের একাধিক নেতা। দলীয় সূত্র বলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এবারও আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন আগে দুইবার দলের মনোনয়ন পাওয়া তাবিথ আউয়াল।
তবে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে এবার ঢাকা উত্তরে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পরাজিত বিএনপির ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম এবং জামায়াত আমিরের আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তাদের মধ্যে মিল্টন গেল সপ্তাহে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিগত দিনে যেসব নেতারা আন্দোলন-সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন, তাদের নানাভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের মধ্যে অনেকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। সোহেল সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ত্যাগী নেতাদের অনেককে মন্ত্রিপরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানেও ঠাঁই হয়নি সোহেলের। তবে অপ্রাপ্তির আক্ষেপে নিজেকে আড়াল না করে হাসিমুখে দলীয় সকল নির্দেশনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছেন হাবিব উন নবী সোহেল। বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে চলছে নানা আলোচনা।
নেতাকর্মীরা বলছেন, হাবিন উন নবী সোহেলকে মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি। সেই প্রেক্ষিতেই সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে সোহেল মনোনয়ন পেতে পারেন বলে আলোচনা জোরাল হয়ে উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘দল যাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে, তিনিই নির্বাচন করবেন। দল চাইলে আমি অংশগ্রহণ করব।’
দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম। তিনিও এর আগে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। গত নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। মনোনয়ন পেলে মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী তিনি নিজেও।
আব্দুস সালাম বলেন, ‘দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচন করব। অতীতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, নাগরিক সেবায় সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে অন্যদের চেয়ে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এর আগে টানা দুটি সিটি নির্বাচনে তাকে মেয়র প্রার্থী করেছিল বিএনপি। এবার মনোনয়ন পেলে আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠে ভালো ফলাফল নিয়ে আসবেন তাবিথ—এমনটাই বলছেন তার অনুসারীরা।
তাবিথ আউয়াল জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচন করবেন এবং ঢাকার জন্য নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগ্রহ রয়েছে তার।
তাবিথ আউয়াল ছাড়াও ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে আলোচনা রয়েছেন বিএনপির ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম এবং যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক) শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের জন্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। বেশির ভাগ সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের সময় সমাগত। তবে বিএনপি সরকার গঠনের পরপর ছয় সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় নির্বাচন সহসা হচ্ছে না বলেও মনে করছেন অনেকে
তবে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সংসদে নেওয়া হবে।
সুনির্দিষ্টভাবে দিনকাল ঘোষণা না করলেও রোববার (১ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ জানিয়েছেন, বছরজুড়ে বা বছরের বেশির ভাগ সময়জুড়ে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি মনে করেন, রমজানের পরপরই স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে কি না জানতে চাইলে ইসি মাসউদ জানান, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দলীয় প্রতীক থাকবে কি না, সে বিষয়ে সংসদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবেন তারা।
