বাসাবোকেন্দ্রিক সংগঠনগুলোর মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন চলছে

তাহসিন আহমেদ

রাজধানীর বাসাবোকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন বিগত বছরগুলোর মত এবারো ক্ষুধার্ত, অনাহারী ও ভ্রাম্যমান রোজাদারদের নিয়মিত ইফতার আপ্যায়ন সেবা আয়োজন করে আসছে। প্রথম রোজা থেকে চলছে এই কার্যক্রম। এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হৃদয়ে ধারণ করে এমন একটি অনন্য সমন্বিত উদ্যোগ। গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে রমজান মাসে ‘সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য’র উদ্যোগে ইফতার আপ্যায়ন সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

এই আয়োজনে প্রতিদিন ইফতার করছে প্রায় ১০০ থেকে ২৭০ জন রোজাদার। আর্থিক অনুদান ও স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে পরিচালিত এই উদ্যোগে পরিচালিত হয়।

গত ১৬ মার্চ শুক্রবার (১৬ রমজান) প্রায় ২৭০ জন রোজাদারকে ইফতার আপ্যায়ন করানো হয়। এই আয়োজন বাস্তবায়নে ছিল বাসাবোভিত্তিক মানবতাবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাসাবো ইয়ুথ সোসাইটি, সবুজবাগ ইউুথ ফোর্স, বাসাবো ইউুথ ক্লাব, হেরাল্ড ওপেন স্কাউট টীম, গোল্ডেন টাই মুক্তি স্কাউট দল। এত বড় আয়োজন সম্ভব হয়েছে বাসাবো এলাকাবাসীপুর অনুদান ও সহায়তার মাধ্যমে। ইফতার আয়োজনে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন উত্তর বাসাবো মসজিদের সম্মানিত খতিব ও ইমাম মোহাম্মদ হানিফ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য’ প্রতিদিন ইফতার সামগ্রীতে শরবত, খেজুর, তরমুজ, শসা, বিরিয়ানী, ডিম খিচুড়ি, মোরগ পোলাওসহ বিভিন্ন খাবার নিজেরা রান্না করে বিতরন করে। এই মহতী উদ্যোগে প্রায় ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করে।

বাসাবোকেন্দ্রিক সংগঠনগুলোর মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন চলছে

‘সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আমিনুল এহসান খান আহাদ বলেন, ”পবিত্র রমজান মাসে এই ইফতার আয়োজনের মত বিশাল কাজ তার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। দেশে বিদেশের অনেক হৃদয়বান ব্যক্তিরা যে যার সামর্থানুযায়ী আর্থিকভাবে আমাদের সহায়তা করেছেন। বাসাবো এলাকার ছোট ভাই-বোনেরা ও আশেপাশের অনেক এলাকার স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এই জনসেবামূলক কাজ রমজানের ৩০ দিন আন্তরিকতার সাথে করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এর মাধ্যমে শুধু সামাজিক কাজ বাস্তবায়নই হচ্ছে না, বরং নিজেদের মধ্যেও সামাজিক মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।”

তিনি বলেন, আপনার আশেপাশের ক্ষুধার্ত অনাহারি ও ভ্রাম্যমান রোজদারদের, উত্তর বাসাবো বউবাজারে নির্দিষ্ট স্থানে পাঠিয়ে আমাদের তাদের সেবা দেওয়ার সুযোগ করে দিবেন। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, আল্লাহর মেহমান ও ভ্রাম্যমাণ রোজদারদের মাসব্যাপী নিয়মিত ইফতার আপ্যায়ন সেবায় নিয়োজিত থাকতে পেরে। আলহামদুলিল্লাহ, মানবতাবোধ জাগ্রত হোক সবার মনে প্রাণে। সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সৃজনশীলতা, সক্ষমতা ও সহনশীলতাই আমাদের প্রত্যয়।

তিনি আরও জানান, ”রমজানের শুরু থেকে এই আয়োজন চলছে। শেষ রমজান পর্যন্ত চলবে। তিনি জানান, মূলত করোনাকাল থেকে প্রতিবেশী, স্কুল ছাত্রছাত্রী এবং কলেজের স্কাউট সংগঠকরা যুক্ত হয়ে মানবিক কার্যক্রম শুরু করে। সেই থেকে এগিয়ে যাওয়া আমাদের এই কর্মকাণ্ডের স্লোগান দেওয়া হয়েছে ‘আমরা সবার – সবাই আমাদের’।

সুশৃঙ্খলভাবে নিয়মিত সেবা দেয়ার জন্য বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ইফতার আয়োজকরা নিজ থেকেই মানুষের সেবায় কিশোর ও যুব সমাজ বাজার করা থেকে শুরু করে ইফতার তৈরি, প্রস্তুতি ও পরিবেশন করে যাচ্ছে। সেবা ও কাজের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহায়তার মাধ্যমে মানুষে মানুষের গড়ে উঠছে আত্মিক সম্পর্ক।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে করোনাকালীন সময় লকডাউনে যখন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ আয় ও কাজের সুযোগ হারিয়ে অর্থনৈতিকভাবে দুর্দশার মধ্যে দিনযাপন করছিল তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য’।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *