তেলের প্রধান ডিপোগুলোয় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার এক বার্তায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, জ্বালানি তেল বিপণনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ডিপো হতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারদের আকস্মিক বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা যায়। ফলে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় প্রধান স্থাপনাসহ প্রধান প্রধান ডিপোগুলোতে অর্থাৎ খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়।

দেশের জ্বালানি তেলের ডিপোগুলো কেপিআইভুক্ত স্থাপনা হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর উল্লিখিত স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনা, খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তেল না দেওয়ার কারণ খুঁজতে রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্টেশনেই জ্বালানি নেই। রেশনিং পদ্ধতি শুরু হওয়ার আগে অতিরিক্ত জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় এসব ফিলিং স্টেশনে মজুদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় তেলবাহী গাড়ি আসেনি বলেও জানিয়েছেন কর্মীরা।আমাদের স্টকের তেল সীমিত, তাই সবাইকে অল্প করে দিচ্ছি। তেলের গাড়ি আসলে আবার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিমানবন্দর সড়কের ডিএল ফিলিং স্টেশনে অকটেন ও ডিজেল— কোনটিই নেই। স্টেশনের এক কর্মী ঢাকা পোস্টকে বলেন, সব রকম তেল শেষ। তবে আজ দুপুরের মধ্যে গাড়ি আসার কথা, তখন আবার তেল পাওয়া যাবে।

‘তেল নেই’ এমন সাইনবোর্ড দেখা যায় খিলক্ষেতের ইসরাইল তালুকদার ফিলিং স্টেশনে। সেখানকার কর্মচারী রাকিব বলেন, পাম্পের তেল শেষ। গাড়ি আসলে পাওয়া যাবে। তবে তেলের কোনো সংকট নেই, সরবরাহ ঠিকঠাক আছে।

এই রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ বাস টঙ্গী-গাজীপুর এলাকা থেকে তেল সংগ্রহ করে। খোঁজাখুঁজির পর দেখা মেলে একটি পাম্পের, যেখানে শুধু ডিজেল বিক্রি হচ্ছিল। প্রোগ্রেসিভ ফিলিং স্টেশন নামের ওই পাম্পে তেল নিতে আসা গাজীপুর পরিবহনের চালক ইসমাইল বলেন, তেল দরকার ৪০ লিটার, অথচ দিচ্ছে ১০ লিটার। যা দিয়ে বেশিক্ষণ চালানো যাবে না, আবার তেল নিতে হবে।এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা আছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশে আসছে। সুতরাং আসন্ন ঈদ ঘিরে তেল সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই, বলেন বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

সম্পর্কিত লেখা:

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *