■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ১২ দিনে ৩৯১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং বিমান চলাচলে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় এসব দেশের গন্তব্যে পরিচালিত ফ্লাইটগুলো বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি এবং ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে আরও ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৪টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটসের ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি ফ্লাইট রয়েছে।
একটি বিশেষ ফ্লাইট ৩৭৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ মার্চ সকালে আরেকটি ফ্লাইট পৌঁছায়। ৪৩৬ আসনের এয়ারবাস ৩৩০–৩০০ এয়ারক্র্যাফট দিয়ে বিশেষ ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৩৯১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলো পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
