■ বাগেরহাট প্রতিনিধি ■
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের গুনাই ব্রিজ এলাকায় নৌ বাহিনীর গাড়ির সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে রামপাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ৯ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বাকি ৪ জনের মরদেহ রামপাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌ বাহিনীর বাসটি বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়রা জানান, দ্রুতগতিতে চলাচলের সময় দুইটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৮ জনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর দুইজন পুরুষ। আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আটজনকে নিহত এবং একজনকে আহত অবস্থায় মেডিকেলে আনা হয়। পরবর্তীতে আহত ব্যক্তিও মারা যান।’
পুলিশ জানায়, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহমেদ জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে নিহত ব্যক্তিদের সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু বলেন, দুর্ঘটনার শিকার একটি পরিবারের বড় ছেলে জনি আমাকে ফোন করে জানান- ‘আমি বাদে পরিবারের সবাই একই গাড়িতে ছিল, তারা সবাই মারা গেছে। আমি রামপাল হাসপাতালে যাচ্ছি, তোমরা একটু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাও।’
তিনি বলেন, আমরা এসে কাউকে জীবিত পাইনি, সবাই মারা গেছে।
