রামপালে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো বিষাদে

■ বাগেরহাট প্রতিনিধি ■

বাগেরহাটের রামপালের আহাদুর রহমান সাব্বির ও খুলনার কয়রা উপজেলার মারজিয়া আক্তার মিতুর বুধবার রাতে বিয়ে হয়। দুই পরিবারের মধ্যে বিরাজ করছিল আনন্দঘন ও উৎসবের পরিবেশ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় বিয়ের গাড়িতে চড়ে কয়রা থেকে রওনা দেন দুই পরিবারের সদস্যরা।বিকেলে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও বিয়ের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় অন্যদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শুধু বর আর কনেই নয়, মারা যায় গাড়ি চালকসহ দুই পরিবারের ১৪ জন সদস্য।

ওই দুই পরিবারের সদস্যরা হলেন- বরের বাবা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, পুত্রবধূ পুতুল বেগম ও তার তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম, মেয়ে ঐশী বেগম, জামাই হোসাইন ও নাতি আল সামিউল ফাহিম, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া, নানী আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম এবং গাড়িচালক নাঈম শেখ।  

নিহত কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুর মামা আবু তাহের বলেন, কয়রা উপজেলার নাকশায় আজ দুপুরে তার ভাগনির বিয়ে হয়। মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশে রওনা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি। বিকেল ৪টার পর জেনেছি রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে।  

রামপালে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো বিষাদে

কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুর বাবা ছালাম মোড়ল বলেন, মেয়ের বিয়ে হয়েছে বুধবার রাতে। আজ সকালে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে রওনা দেয়। দুর্ঘটনায় আমার মা রাশিদা বেগম, শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম ও আমার মেয়ে মার্জিয়া আক্তার মিতু ও লামিয়া মারা যান।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর বিয়ের মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথিমধ্যে বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আমাদের এখানে ৪টি মরদেহ আছে।

রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসরুর আহসান বলেন, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ এসেছে। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।  

গাড়িচালক নাঈমের এক বন্ধু বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফলতিতা বাজার ক্রস করছিলাম। তখন আমার কাছে ফোন আসে, রামপালে নাঈম অ্যাক্সিডেন্ট করছে। পরবর্তীতে গ্রুপে জানাই। পরে জানতে পারি, নৌবাহিনীর গাড়ির সাথে নাঈমের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনা শুনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। এসে দেখলাম সে মারা গেছে।  

দুর্ঘটনার পর একের পর এক লাশ আসে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নবদম্পত্তিসহ একে একে ১০টি লাশ নেওয়া হয় মর্গে। এছাড়া, রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় আরও চারজনের মরদেহ।

স্থানীরা জানান, মোংলার দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে বর-কনেবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার মেহেনাজ মোশাররফ সেখানে ১০টি মরদেহ থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন।

সম্পর্কিত লেখা:

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *