প্রথম দিনেই সংসদে উত্তাপ, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

নাগরিক প্রতিবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়িয়েছে। সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও ওয়াকআউট করেন।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে শুরু হয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মাওলা কার্যক্রমের সূচনা করেন। স্পিকারের চেয়ার ফাঁকা রেখে শুরু হয় সংসদের কার্যক্রম। স্পিকারের চেয়ারের পাশে রাখা হয় রাষ্ট্রপতির জন্য চেয়ার।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান দাঁড়িয়ে অধিবেশন শুরুর জন্য একজন সদস্যকে নির্বাচনের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এই ধরনের পরিপ্রেক্ষিত নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।’

তারেক রহমান সভাপতি হিসেবে বিএনপি দলীয় জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। অন্য সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সম্মতি দিলে সরকারি দলের প্রথম সারি থেকে খন্দকার মোশাররফ উঠে যান। এরপর সার্জেন্ট অব আর্মস স্যালুট দিয়ে তাঁকে স্পিকারের আসনে নিয়ে যান।

এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয়। অধিবেশনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে একটি করে মনোনয়ন পাওয়ার কথা জানান। পরে নিয়ম অনুযায়ী তিনি স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার পদে কায়সার কামালের নাম ভোটে দেন। কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

বেলা দেড়টার পর স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন আবার শুরু হয়। সূচনা বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিল। তারপরও বাধাগ্রস্ত হয়েছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে মাঝে স্বৈরশাসকের পদধ্বনি আমরা শুনতে পেয়েছি। জনগণ বিড়ম্বিত হয়েছে। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ এক গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করেছে।’

স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হবে। জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ওপরে স্থান দেওয়ার জন্য আমরা শপথবদ্ধ। সবার আগে বাংলাদেশ—এ হোক আমাদের মূলমন্ত্র।’

নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আজ থেকে আপনারা কোনো দলের নন, আপনারা এই মহান জাতীয় সংসদের অভিভাবক। গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সংসদকে অধিকার লঙ্ঘনকারীদের ক্লাবে পরিণত করা হয়েছিল। কিন্তু আজকের এই সংসদ সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ।’ তিনি সংসদের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে যাঁরা নিজেদের এমপি পরিচয় দিয়েছিলেন, তাঁরা কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না।

সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাণবন্ত করতে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা চাই না। বরং সারগর্ভ ও যুক্তিযুক্ত তর্কের মাধ্যমে আমরা এই সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলতে চাই। সংসদ পরিচালনায় আপনাদের ভূমিকা সর্বাধিক এবং আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।’

বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক কোনো সংসদ নয়, বরং চব্বিশের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক বিশেষ সংসদ বলে অভিহিত করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরে সংসদীয় রাজনীতি খুব কম সময় কার্যকর ছিল। বেশির ভাগ সময় দেশ ফ্যাসিবাদের কবলে ছিল এবং সংসদ ছিল কেবলই একটি ডামি সংসদ। যাঁরা অতীতে এই চেয়ারে বসেছেন, তাঁরা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের ওপর সুবিচার করতে পারেননি।’

সংসদকে কোনো ব্যক্তির চরিত্র হননের কেন্দ্র না বানানোর অনুরোধ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ যেন কারও অপমানের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। এটি যেন কেবল জনকল্যাণে পরিচালিত হয়। সংসদের সব গঠনমূলক কাজে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন তিনি।

প্রথম দিনেই সংসদে উত্তাপ, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

বিরোধী দলের ওয়াকআউট

বেলা ৩টা ৩৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান স্পিকার। এ সময় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম কিছু বলার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকার মাইক না দিলে নাহিদ দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কিলার ইন দ্য পার্লামেন্ট!’ তিনি ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখাসহ বিভিন্ন বক্তব্যসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্যে শুধু শফিকুর রহমান তাঁর আসনে বসে ছিলেন।

স্পিকার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া সংবিধান অনুযায়ী একটি বাধ্যবাধকতা। আমরা সংবিধানের বিধান ও জাতীয় সংসদের রেওয়াজ অনুসরণ করতে চাই। দয়া করে আপনারা খারাপ কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন না।’

হট্টগোলের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদকক্ষে প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদ নেতা ও সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধীদলীয় সদস্যদের একাংশ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আসনে বসে থাকেন। বিউগলে জাতীয় সংগীত বাজতে শুরু করলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুলসহ সংসদের কর্মকর্তারা জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সদস্যদের দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়ান। তাঁদের নীরবে থাকতে দেখা যায়। রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে বিরোধীদলীয় সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষে আগামী রোববার সকাল পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

যেই রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়েছেন, তাঁর ভাষণ নিয়ে স্ববিরোধিতা কেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকাকে ‘স্ববিরোধিতা’ বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, ‘যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁরা আলাপ-আলোচনা করেছেন ৫ আগস্টের বিকেল বেলা, সিক্সথ অব আগস্ট এবং যে রাষ্ট্রপতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। তাঁদের দু-একজন তো এই সংসদেরও সদস্য হয়ে আসছেন। তো সেটা তাঁদের জিজ্ঞেস করা যায়, এই স্ববিরোধিতা কেন?’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রথমে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির প্রতিবাদ জানান। পরে বিরোধী দলের অন্য সদস্যরা নানা বক্তব্যসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভের পর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট (বর্জন) করেন।

বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতে পারেন। তাঁরা ওয়াকআউট করেছেন। এটা ব্যতিক্রম কোনো ঘটনা নয়। তাঁরা আবার আসবেন, আগামী দিনে যে সংসদ বসবে, সেদিন আবার আসবেন।’

সংসদকে বিএনপি কেমন রাখতে চায়—এই প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অবশ্যই সংসদ অর্থবহ হবে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে। জাতীয় সব সমস্যার এবং সব ইস্যুর এখানে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা সমাধানে যাব ইনশা আল্লাহ। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখব। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, সেই ঐক্যকে আমরা ধরে রাখব এবং জাতীয় যেকোনো ইস্যুতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাব।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের দিনের জন্য পুরো জাতি ১৭-১৮ বছর অপেক্ষা করেছে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে, গণতন্ত্র উত্তরণের পথ পরিষ্কার হয়েছে, আজ নতুনভাবে সেই নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ যেন জাতির সব ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে এমন একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখা হবে, যে চর্চার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক শক্তিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যাবে।

আগামী রোববার বেলা ১১টায় আবার সংসদ বসবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কেমন ছিল সংসদের পরিবেশ

সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কোট-প্যান্ট পরে সংসদ নেতা তারেক রহমান অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে সংসদ সদস্যরা তাঁকে টেবিল চাপড়ে অভিবাদন জানান। হাস্যোজ্জ্বল তারেক রহমান চারপাশে তাকিয়ে নিজের আসনে বসেন। এ সময় ভিভিআইপি লাউঞ্জের প্রথম সারিতে বসা প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

ভিভিআইপি লাউঞ্জসহ দর্শক গ্যালারিগুলো ছিল আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে পূর্ণ। ভিভিআইপি গ্যালারিতে ছিলেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ টি এম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ভিভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসেন্টসেন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত-হাইকমিশনার ছাড়াও জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ গোলাম নাফিজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রিকশাচালক নুর মুহাম্মদও দর্শক গ্যালারিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *