ঝিনাইদহে জামায়াতের হামলায় কৃষক দল নেতা নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে নারী কর্মীদের সভায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতের হামলায় আহত বিএনপির কর্মী তরু মিয়া (৪৮) মারা গেছেন। আজ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এর আগে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নারী কর্মীদের আলোচনা সভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে তরু মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। নিহত তরু মিয়া গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মাধবপুর গ্রামে শুক্রবার জামায়াতের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দুপুরে ইফতারের আয়োজন নিয়ে নারী কর্মীদের সাথে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে তরু মিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে তিনি মারা যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ওই এলাকায় পুনরায় সংর্ঘষ এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক সাকিব আহমেদ বাপ্পী জানান, মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের হামলায় আহত গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক তরু মিয়া ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দোষীদের অতি দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

নিহত তরু মিয়ার বাড়ি মাধবপুর গ্রামে। প্রায় দুই যুগ তিনি বিদেশে ছিলেন। ৫ মাস আগে দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তাঁর ছেলে শিপন রহমান ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী।

ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আবু কালাম বলেন, জামায়াতের কর্মীদের হামলায় বিএনপির ৮ নেতা–কর্মী আহত হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আহত ব্যক্তিদের ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সে সময় তরু মিয়া বমি করছিলেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকায় পাঠান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান। তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হচ্ছে।

ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ নিয়েও আলোচনা চলছিল। দোয়া মাহফিল চলাকালে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসে হামলা চালায়। খবর পেয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলার কারণ জানতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে কয়েকজন আহত হন।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন আহত তরু মিয়ার ঢাকা মেডিকেলে মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আবার যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। সার্বিক পরিস্থিতি তাঁরা পর্যবেক্ষণ করছেন। এই ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *