৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের বোঝা রেকর্ড ৩৯ ট্রিলিয়ন (৩৯ লাখ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিশাল অঙ্কের এই ঋণের পেছনে একদিকে রয়েছে ব্যাপক কর ছাড় ও অভিবাসন আইন কঠোর করার ব্যয়, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল বরাদ্দ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় এবং ক্ষমতায় আসার পর ঋণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে তা উল্টো পথে হাঁটছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, মাত্র পাঁচ মাস আগে দেশটির ঋণ ছিল ৩৮ ট্রিলিয়ন এবং তার মাত্র দুই মাস আগে ছিল ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (জিএও) সতর্ক করে বলেছে, ক্রমবর্ধমান এই ঋণের ফলে সাধারণ মার্কিনিদের মর্টগেজ বা গাড়ি কেনার ঋণের খরচ বেড়ে যাবে। এ ছাড়া ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় মানুষের মজুরি কমবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম আকাশচুম্বী হবে।

পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের সিইও মাইকেল পিটারসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ঋণ বৃদ্ধির এই হার উদ্বেগজনক। বর্তমান গতিতে চললে আগামী নির্বাচনের আগেই এটি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করবে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়া এভাবে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ধার করা টেকসই অর্থনীতির পরিপন্থী।’

এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান যুদ্ধ। গত রোববার হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত ১২ বিলিয়ন (১ হাজার ২০০ কোটি) ডলারেরও বেশি খরচ হয়েছে। যুদ্ধটি কত দিন চলবে বা এর চূড়ান্ত ব্যয় কত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

তবে ঋণের পাহাড় বাড়লেও ঘাটতি কমছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র কুশ দেশাই জানান, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই ফেডারেল ঘাটতি কমেছে। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে মোট ব্যয় ছিল ৭ দশমিক শূন্য ১ ট্রিলিয়ন এবং আয় ছিল ৫ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ বিলিয়ন ডলার কম।

দেশাই আরও দাবি করেন, কর আদায় বৃদ্ধি, সরকারি কর্মীর সংখ্যা ১৯৬৬ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে জালিয়াতি বন্ধ করার কারণেই ঘাটতি কমেছে। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত সঠিক পথেই থাকবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *