জেট ফুয়েলের দাম লিটারে বাড়ল ৯০ টাকা

নাগরিক প্রতিবেদক

উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ দশমিক ৫৯ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটার দশমিক ৭৩৮৪ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন মূল্যহার ঘোষণা করা হয়, যা একই দিন (২৫ মার্চ) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

৮ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে মার্চ মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক রুটে তখন ০ দশমিক ৬২ ডলার থেকে বাড়িয়ে ০ দশমিক ৭৩৮৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেদিন রাতে বিইআরসির পক্ষ থেকে দাম বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করে তা এক ঘণ্টার মধ্যে আবার স্থগিত করা হয়।

২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল, প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশে বাড়বে, কমে গেলে কমবে। এর আগপর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সময়ে সময়ে দাম নির্ধারণ করে এসেছে। তবে এই প্রথম এক মাসে দুই দফায় দাম বাড়াল বিইআরসি।

বিইআরসি তখন বলেছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটসের গড় দর, ডলার বিনিময় হার এবং পরিবহন ব্যয় বিবেচনায় সেই সমন্বয় করা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং এশিয়ায় জেট ফুয়েলের বাজার অস্থির হয়ে পড়ায় দামে ঊর্ধ্বগতি তৈরি হয়েছে।রয়টার্স জানিয়েছে, এশিয়ায় জেট ফুয়েলের দর ব্যারেলপ্রতি ১৬৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে এর আগেও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তেল সরবরাহ নিয়েও সরকারকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে জেট ফুয়েলের নতুন দাম উড়োজাহাজের পরিচালন ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

জেট ফুয়েলের দামের এ উল্লম্ফনের প্রভাব প্রথমে পড়তে পারে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে। কারণ স্থানীয় রুটে জ্বালানি ব্যয় এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন খরচের বড় একটি অংশ। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেও জ্বালানির খরচ বাড়বে, যদিও সেখানে মূল্য নির্ধারণে অন্যান্য বাণিজ্যিক উপাদান কাজ করে।

আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনের পর গত বছরের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *