■ রাজবাড়ী প্রতিনিধি ■
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি ৬ ঘণ্টা পর টেনে তুলেছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। এ ঘটনায় বাস থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান রাত ১২টা ৫০ মিনিটে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বাসের একটি অংশ দৃশ্যমান হয়। সাড়ে ১১টা নাগাদ পুরো বাসটি জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে টেনে পানির ওপরে তোলা হয়।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে শনাক্ত হওয়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মৃত কাশেম আলীর ছেলে আব্দুর রহমান (৪৫), একই এলাকার মো. ফারুক হোসেনের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩২), রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাসিন্দা সাজেদা খাতুন (৫০) এবং ইমন (১২) নামের এক কিশোর।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কামাল হোসেন (৩৮), সুমি আক্তার (২৫), বিপ্লব মণ্ডল (৪০) ও শিশু রাফি (৭) গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিনজন আহত ব্যক্তিও সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল জানান, বাসে থাকা যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সেটি ৫০ থেকে ৫৫ জনের মধ্যে হতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বিকেল ৫টার কিছু পরে বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটে পৌঁছায়। একটি ফেরি ছেড়ে যাওয়ায় পরবর্তী ফেরির জন্য বাসটি পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। এমন সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি ভেড়ার সময় পন্টুনে সজোরে আঘাত করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মুহূর্তেই যাত্রীসহ গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়।
ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘চোখের সামনে বাসটি তলিয়ে গেল। আমরা কিছুই করতে পারলাম না। বাসের ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই বের হতে পারেননি।’
ঘটনাস্থলে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তিনি দ্রুতগতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তাঁকে অবগত করতে বলেছেন।
দুর্ঘটনার বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। কমিটিতে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, পুলিশের প্রতিনিধি থাকবেন।
বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের ভাষ্য
দুর্ঘটনার পর বাসটি তলিয়ে যাওয়ার শুরুতে পাঁচ থেকে সাতজন যাত্রী কোনোমতে জানালা বা দরজা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন।
সৌহার্দ্য পরিবহন দৌলতদিয়া ঘাট প্রতিনিধি মনির হোসেন জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী বাসটিতে ৫০/৫২ জন যাত্রী ছিল। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়ার ৩নং ফেরিঘাটে পৌঁছালে ১০-১২ জন যাত্রী বাস থেকে নিচে নেমে যান। অবশিষ্ট যাত্রীদের নিয়ে বাসটি ঢালু অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে ফেরিতে উঠতে যাচ্ছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীর গভীর জলে পড়ে তলিয়ে যায়। বাসটিতে অধিকাংশই পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম সালাঊদ্দিন জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সহযোগিতায় বাসটি টেনে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল জানান, বাসে থাকা যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সেটি ৫০ থেকে ৫৫ জনের মধ্যে হতে পারে।
অন্ধকার ও পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে নিমজ্জিত বাসটি এখনো টেনে তোলা সম্ভব না হওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো ঘাট এলাকায় এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
