■ নাগরিক প্রতিবেদন ■
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আগামী ৭ এপ্রিল হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
এদিন বেলা সোয়া ১১টায় চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (২৯ মার্চ) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এদিন, সোয়া ১১টায় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘ডিজিএফআই এর সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দুটি মামলা রিমান্ডে আছেন। আমরা তাদেরকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাচ্ছি।’
এছাড়া মামলার পরবর্তী তারিখ চাচ্ছি সেদিন তাদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে,’ আবেদনে বলেন তিনি চিফ প্রসিকিউটর।
পরে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশনের এ আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৭ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১০টায় তাদের হাজির করার আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফেনীতে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় ও মামুন খালেদকে গুমের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে প্রসিকিউশন।
বিগত এক-এগারোর সরকারের আমলে অন্যতম আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত ২৪ মার্চ পল্টন থানার একটি মানবপাচার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ডিজিএফআইফের সাবেক ডিজি শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
মাসুদ উদ্দিন ছয় দিনের রিমান্ডে
মানব পাচার আইনে রাজধানীর পল্টন থানায় করা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর এবার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন।
বেলা দুইটায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রায়হানুর রহমান এই মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামির ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
দ্বিতীয় দফার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পাঁচ দিনের রিমান্ডে আসামিকে অতি সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে আসামির কাছ থেকে পুরো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই আসামিকে আবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
