🖊️ ক্রীড়া প্রতিবেদক 🖊️
সাফের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় প্রথমবারের মতো ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পেলেন অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ দলের ফুটবলাররা। ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দলের জন্য ছাদখোলা বাসে বর্ণিল সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফুটবলারদের বরণ করে নিতে এবং এক নজর দেখতে বিমানবন্দরে ভিড় করেন ভক্ত-সমর্থকরা।
পরে ফুটবলারদের ছাদখোলা বাসে তোলা হয়। বাসের ছাদ থেকে ভক্তদের ভালোবাসার জবাব দেন তারা। বিমানবন্দর থেকে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারের যাবে ফুটবলারদের বহনকারী বাসটি। সেখানে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটার তখন আলোকসজ্জায় সজ্জিত। রাত ৯টার পর সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন দল সেখানে প্রবেশ করতেই উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক একে একে ফুটবলারদের নাম ডাকার পর তারা মঞ্চে ওঠেন। ট্রফি হাতে মঞ্চে ওঠেন অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী। ইনজুরির কারণে মালেতে যেতে না পারা ফুটবলার আশিকুর রহমান স্ক্যাচ নিয়েই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন; অধিনায়ক মিঠু তার হাতেই ট্রফিটি তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দুই আমেরিকান প্রবাসী ফুটবলার রোনান ও ডেকলান সুলিভান। সমর্থকদের ডাকে দুই ভাই সাড়া দিচ্ছিলেন। দলের অন্য ফুটবলাররাও এই আনন্দঘন মুহূর্ত বেশ উপভোগ করেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিমানবন্দর থেকে হাতিরঝিলের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও একসময় সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘গতকাল আমি কক্সবাজার থেকে খেলা দেখছিলাম। মাহিন (গোলরক্ষক) যেভাবে সেভ করেছে, আমিও ২০০৩ সালের সাফ ফাইনালে টাইব্রেকারে সেভ করেছিলাম।’
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরপরই যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অভিনন্দনের পাশাপাশি আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আজকের অনুষ্ঠানেও তিনি সেই অঙ্ক প্রকাশ করেননি। চমক রেখে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবসের (৬ এপ্রিল) দিন এটি ঘোষণা করা হবে। ফুটবলারদের জন্য ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে।’ বাফুফে সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ১ লাখ এবং কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা আজ রাতের মধ্যেই পুরস্কার হিসেবে প্রদান করবেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ফুটবলারদের ৫০ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমাদের ফাইভ স্টার হোটেলে রেখে উজ্জীবিত করা হয়েছে। এই ট্রফির পেছনে অনেক শ্রম ও ঘাম রয়েছে। আমরা সবাই কষ্ট করেছি। দেশবাসীকে এই ট্রফি উৎসর্গ করছি।’ এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলার রোনান সুলিভান ও তার ভাই ডেকলান সুলিভান ইংরেজিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাদের মূল ভাষ্য ছিল, ‘তারা বাংলা বলতে পারেন না, তবে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের ভালোবাসায় তারা সিক্ত এবং এটি খুবই উপভোগ করছেন।’
বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্স এই দলের মধ্যে দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন। ২০৩৪ সালের মধ্যে এই দল বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই দলকে বড় মঞ্চে দেখার আশা ব্যক্ত করেন।
অনূর্ধ্ব-২০ দল ডেভেলপমেন্ট কমিটির অধীনে পরিচালিত হয়। সেই কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ‘আমাদের পাইপলাইন শক্ত করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে ফুটবলাররা যেন আসে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মেলে ধরতে পারে, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। দৃঢ় লক্ষ্য থাকলে যে সফল হওয়া যায়, তা এই দলের সাফল্যেই প্রমাণিত।’
সাফজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
এই দলটিকে নিয়ে বেশ আশাবাদী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু তারা অনূর্ধ্ব-২০ দল, আমাদের বয়সভিত্তিক দল, তাই আমরা আশা করি খুব শিগগিরই তারা বাংলাদেশের মূল জাতীয় ফুটবল দলে খেলার সুযোগ পাবে। প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবার অত্যন্ত ক্রীড়াবান্ধব। আমরা বিশ্বাস করি, এভাবে ফুটবল, ক্রিকেটসহ সকল স্পোর্টস এগিয়ে যাবে। খেলাধুলার মাধ্যমে সমাজ গঠন এবং দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে আমরা কাজ করে যাব।’
মালদ্বীপ জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়। টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাফের বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।
