✒️নাগরিক প্রতিবেদন ✒️
মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে চীনের পতাকাবাহী ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামের একটি জাহাজ।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত জানান, জাহাজটি গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে, বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছেছে।
জাহাজটি ২৯ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস। প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম জানান, জাহাজে ৩৪ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেল রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫-৬ হাজার টন ডিজেল বহির্নোঙরে ছোট জাহাজে খালাস (লাইটারিং) করতে হবে। এই কাজ শেষ করতে অন্তত দুই দফা অপারেশন প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার (৫ এপ্রিল) জাহাজটি পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে ভিড়তে পারে।
এর আগে গতকাল দুপুর ২টায় সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘ইয়ান জিং হে’ নামের আরেকটি জাহাজ ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে পদ্মা অয়েলের ডলফিন জেটি-৬-এ খালাস কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি রোববার বন্দর ত্যাগ করবে। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্টও প্রাইড শিপিং।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো দশম ডিজেল জাহাজ। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাইপলাইনে থাকা সরবরাহের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কমলগঞ্জে গভীর রাতে ১৬০০ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত করা ১ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চিতলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ডিজেল জব্দ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চিতলিয়া এলাকায় ‘হিরন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকানের ভেতর থেকে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা আটটি ড্রামে প্রায় ১ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়।
অভিযানের সময় দোকানটির মালিক হিরন মিয়া ও তাঁর ছেলে জুয়েল মিয়া পালিয়ে যান। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উদ্ধার করা ডিজেল বর্তমানে প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে। জব্দ করা তেলের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
