রাজধানীতে নতুন মারণাস্ত্র ‘পেন গান’

𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন 𓂃✍︎ 

রাজধানী ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা মিলেছে কলমের মতো দেখতে ছোট আকারের আগ্নেয়াস্ত্র ‘পেন গান’। সহজে বহনযোগ্য ও গোপনে লুকিয়ে রাখার সুবিধার কারণে এটি অপরাধীদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য হয়ে উঠছে নতুন উদ্বেগের কারণ।

পুরান ঢাকায় গুলির ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের লালবাগ বিভাগের একটি চৌকস দল ‘পেন গান’সহ সোহেল কাল্লু ও সায়মন নামে দুজনকে গ্রেফতার করে। এখন পেন গান নামের ক্ষুদ্র অস্ত্রটির উৎস খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘যুবদল নেতাকে গুলির ঘটনায় জড়িতরা সবাই তার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আসামিদের নাম-পরিচয় পেতে সমস্যা হয়নি। ঘটনার পর থেকে আমরা ছায়া তদন্ত করছিলাম। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে সায়মনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সোহেল ওরফে কাল্লুকে গ্রেফতার করা হয়। কাল্লুর কাছ থেকে রাসেলকে গুলি করার সময় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাই অস্ত্রটি গতানুগতিক কোনো অস্ত্র নয়। এটি একটি বিশেষ ধরনের কলম সদৃশ বস্তু, যা ‘পেন গান’ নামে পরিচিত। এ কারণেই আমাদের আগ্রহ বেশি ছিল। কারণ, এমন অস্ত্র অতীতে কখনো ব্যবহৃত হওয়ার রেকর্ড নেই বা এমন মামলা আমরা ডিএমপিতে পাইনি। তাই অস্ত্রটি কীভাবে দেশে এল, কে কে জড়িত– সবকিছু উদ্ঘাটনে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। অস্ত্রটি আর কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি কী কারণে গুলির ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি।’

গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা, অস্ত্রটি ভারত কিংবা পাকিস্তানের তৈরি। তবে এর গায়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না থাকায় সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ধরনের অস্ত্র খুলনাসহ দেশের পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থীদের ব্যবহার করার তথ্যও পাওয়া যায়।

বিশেষ এই অস্ত্রের উপস্থিতির তথ্য পাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। যদিও সংখ্যায় এখনো সীমিত, তবে অপরাধে ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং এর গোপনীয়তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে তুলেছে।

‘পেন গান’ মূলত একটি ছদ্মবেশী আগ্নেয়াস্ত্র, যা দেখতে সাধারণ কলমের মতো হলেও এর ভেতরে থাকে ছোট আকারের ফায়ারিং মেকানিজম। সাধারণত স্বল্প দূরত্বে গুলি ছোড়ার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। আকারে ছোট হওয়ায় এটি সহজেই পকেট বা ব্যাগে রাখা যায় এবং তল্লাশির সময় অনেক ক্ষেত্রে চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, এ ধরনের অস্ত্র বিদেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা বা অনলাইন ব্ল্যাক মার্কেটের মাধ্যমে আসতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে এনে দেশে সংযোজন করাও হতে পারে। এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে, হয়ত আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *