𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন 𓂃✍︎
বগুড়া-৬ আসনের (সদর) উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ৭৬ হাজার ৭৭২ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলকে পরাজিত করেন।
একই দিন অনুষ্ঠিত শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৬ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমানকে পরাজিত করেন।
ধানের শীষ প্রতীকে মাহমুদুল হক রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯১ ভোট। এছাড়াও কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট। এতে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৬ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মাহমুদুল হক রুবেল।
এই আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮। বাতিল ভোট ২ হাজার ৮৬। সব মিলিয়ে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৪টি। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের সঙ্গে এ আসনেও নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত করা হয়।
শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছিলেন ৩ হাজার ৫৭৪ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ১৯ জন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্থানে জাল ভোটের ঘটনা ঘটলেও জড়িতদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৫২ দশমিক ১৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, উপনির্বাচনের মোট ১৫০ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২১৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯০৪ ভোট।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই আসনে ভোটগ্রহণ চলে।
বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট কেন্দ্র ১৫০টি এবং বুথের সংখ্যা ৮৩৫টি। এর মধ্যে ৭৮৭টি স্থায়ী এবং ৪৮টি অস্থায়ী বুথ। ১৫০টি কেন্দ্রে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৯৯টি।
উল্লেখ্য, এই আসনটি থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বিপুল ভোটে এই আসনটি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করেছে। পুরো জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ সদস্য ও ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই আসনের দুটি উপজেলায় ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১ হাজার ১৫০ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে এই আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তাঁর ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করে জামায়াত।
