ঢাকার দুই সিটিতে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু

𓂃✍︎  নাগরিক প্রতিবেদক 𓂃✍︎ 

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে শুরু হয়েছে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’। রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত।

ডিএনসিসি এলাকায় প্রায় ৫ লাখ এবং ডিএসসিসিতে প্রায় ৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সকালে রাজধানীর কড়াইল এলাকার এরশাদ মাঠে এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুকে অবশ্যই এই টিকার আওতায় আনতে হবে। তিনি জানান, প্রথমে দেশের ১৭টি উপজেলায় এবং পরে ৪টি সিটি করপোরেশনে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই কর্মসূচি শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার বদ্ধপরিকর। বৈজ্ঞানিকভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে ১৮টি জেলার ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেসব এলাকায় ৫ এপ্রিল থেকেই জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালু হয়েছে।

এম এ মুহিত বলেন, হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়, তবে সময়মতো টিকা দিলে এটি সহজে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটি ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ থাকে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মায়েদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে অবশ্যই টিকা দিতে হবে। একটি শিশুর টিকা গ্রহণ শুধু তার নিজের সুরক্ষাই নয়, বরং পুরো সমাজের সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এই টিকাদান কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছালে তারা বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কোনো জেনারেল হাসপাতাল নেই। মহাখালীতে অবস্থিত ডিএনসিসির কোভিড হাসপাতালকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে নগরবাসীকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ইউনিসেফের ইম্যুনাইজেশন হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠান থেকে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তাঁরা যেন তাঁদের ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে এসে টিকা প্রদান নিশ্চিত করেন।

ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৫৯৯টি কেন্দ্রে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৪টি স্থায়ী কেন্দ্র, ৫০২টি অস্থায়ী কেন্দ্র, ৩৫টি ইভিনিং সেন্টার এবং ৮টি ফ্রাইডে সেন্টার। পুরো কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৪ জন টিকাদানকর্মী, ৬৫০ জন ভলান্টিয়ার এবং ২০৩ জন সুপারভাইজার।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকাতেও হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ পরিচালিত হচ্ছে। রোববার সকালে নগর ভবনে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয় ৷ এখানে ৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিএসসিসি এলাকায় ৯০টি স্থায়ী কেন্দ্র এবং ৪৫০টি অস্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৫৪০টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *