𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন 𓂃✍︎
সাবেক জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ সাময়িক স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। মক্কেলের কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর সনদ স্থগিত করা হয়েছে।
গত ১৫ এপ্রিল বুধবার বার কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বার কাউন্সিল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বার কাউন্সিলের গোচরীভূত হয়। উল্লিখিত সংবাদ মতে, আইনজীবী মাসদার হোসেন উক্ত বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ওই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ও পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্ন বিবেচনায় নিয়ে বার কাউন্সিলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে এই বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রাথমিক উপাদান থাকায় সাময়িকভাবে তার সনদ স্থগিত করে, তার সনদ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না—মর্মে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অবধি তার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তবে লিখিত এক বক্তব্যে মাসদার হোসেন বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একটি মহল বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছে।’
মো. মাসদার হোসেন ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ছিলেন। তখন নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক্করণ সংক্রান্ত মামলাটি তিনি ও তাঁর সহকর্মী বিচারকেরা দায়ের করেছিলেন, যেটি ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। অবসর গ্রহণের পর আইন পেশায় ফেরেন মাসদার হোসেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন তিনি।
মূলত মো. মাসদার হোসেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং আইনজীবী। তিনি সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক ‘মাসদার হোসেন মামলা’র বাদী হিসেবে দেশব্যাপী সুপরিচিত। ১৯৯৯ সালে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার লক্ষ্যে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার দাবিতে মামলাটি করেন। এই মামলার রায়ের মাধ্যমেই ২০০৭ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগ পৃথক করা হয়।
মাসদার হোসেন ১৯৮৩ সালে মুনসেফ হিসেবে বিচার বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করছিলেন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
