𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক 𓂃✍︎
ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফা সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির দু’টি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এবং ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই।
পাকিস্তানের একটি সূত্র এ প্রসঙ্গে আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছে, “আমরা মঙ্গলবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছি। মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করার দিকেই মনযোগ দেওয়া হচ্ছে।”
সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যে তেহরান সফরে গিয়েছিলেন, সেটিও ছিলো সেই প্রস্তুতিরই অংশ।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শুরু থেকেই এ যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ছিল পাকিস্তান।
একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে বিরতির তৃতীয় দিনে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সংলাপে বসেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা; কিন্তু টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।
ইসলামাবাদে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফা সংলাপের ব্যাপারে কথাবার্তা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই জানায়, তারা দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসতে আগ্রহী এবং সেই সংলাপের ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদ যেতে তাদের আপত্তি নেই।
তারপর থেকেই দ্বিতীয় দফা সংলাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে পাকিস্তান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ইরানের সাথে এ যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি লেবানন যুদ্ধবিরতি ইরানের সাথে বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করে, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিশাল বিজয় হবে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে চুক্তির সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আর যদি তা ঘটে, তবে তেলের দাম অনেক কমে যাবে, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাবে এবং… তার চেয়েও বড় কথা, কোনো পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, গত সপ্তাহে ইরানের সাথে যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, সেটি আগামী সপ্তাহের পর বাড়ানোর প্রয়োজন হবে কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তেহরান একটি চুক্তি করতে চায় বলে তিনি যোগ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বাস করা কঠিন হলেও, ইরানের সাথে বর্তমানে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। আমি মনে করি, প্রায় চার সপ্তাহের বোমাবর্ষণ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী অবরোধের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইট হাউসে বৈঠক হতে পারে। আর যদি ইসলামাবাদে ইরান চুক্তি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি সে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে যেতে পারেন।
এ দিকে গত সপ্তাহের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তেহরান তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করেছে যে সমস্ত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্য দিকে, তেহরান তাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছে। দুই ইরানি সূত্র জানিয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে একটি সমঝোতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তেহরান তাদের মজুতের একটি অংশ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বিবেচনা করছে, যা তারা আগে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
