ইরানের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক 𓂃✍︎ 

ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় অংশ নেবে না এমন কথাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, আলোচনায় যদি উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে তাহলে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। 

দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে- এই প্রসঙ্গ তোলা হলে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের আলোচনার কথা আছে। তাই আমি ধরে নিচ্ছি, এই মুহূর্তে কেউ কোনো রকম চালাকি করছে না।’

ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সঙ্গে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। 

ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সঙ্গে দেখা করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। যদি তারা দেখা করতে চায়; তবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানকে অবশ্যই যেকোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে। এটি খুবই সাধারণ বিষয়। তাদের কাছে কোনো পরমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।

ট্রাম্পকে মুনিরের ফোন, শেহবাজকে শর্ত দিলেন পেজেশকিয়ান

দ্বিতীয় দফা সংলাপ ঘিরে যখন অনিশ্চয়তা গাড় হচ্ছে তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে আলাপ করেছেন পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা। এর মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অসিম মুনির এবং মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে শেহবাজ শরিফ যোগাযোগ করেছেন।

পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমন তথ্য দিয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের সময় সেনাপ্রধান অসিম মুনির নৌ অবরোধের কথা উল্লেখ করেন। মুনির জানান, ইরানি বন্দরগুলোতে জারি থাকা অবরোধ নতুন আলোচনা শুরুর ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প অসিম মুনিরকে জানিয়েছেন তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

নিরাপত্তা সূত্রটি আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সে সময় তিনি প্রতিনিধি পাঠাতে পেজেশকিয়ানকে অনুরোধ করেন। জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ইরান কোনো প্রতিনিধি দল পাঠাবে না।

এদিকে আলোচনার বিষয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনা। পণ্যবাহী জাহাজটি নৌ অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তুসকা নামের জাহাজটি জব্দের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আদৌ হবে কি না সে অনিশ্চয়তা গাড় হচ্ছে। 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যার দিকে মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তেহরান এখনো আলোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *