বৈশাখের তাপপ্রবাহ কমালো স্বস্তির বৃষ্টি

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজেছে রাজধানী ঢাকা। বিকেল ৫টার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়।

দুপুরের পর থেকে ঢাকার আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। একপর্যায়ে আকাশ ঘন কালো হয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। বিকেলেই যেন নেমে আসে সন্ধ্যা। রাস্তার পাশের দোকান-পাটে লাইট জ্বলে ওঠে। সড়কে চলমান গাড়িগুলোকেও লাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা যায়।

গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকায় ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন নগরবাসী। তীব্র গরমে দুর্ভোগ ছিল চরমে। আজ বৃষ্টির পর কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছে জনজীবনে।

এর আগে, দেশের ৫ বিভাগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির সতর্কবার্তা জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস দেওয়া হয়েছিল। 

আবহাওয়া অফিসের বার্তায় বলা হয়, রোববার দুপুরের পর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে পশ্চিম/উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বা তার বেশি বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

রোদ আর মেঘের খেলা—রাজধানীতে তেমনটা চলছিল কয়েক দিন হলো, বিশেষ করে সকালের দিকে। রাতে কিছুটা শীতল হয়ে যাওয়া বায়ু সকালের তাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়েই মেঘের মতো সৃষ্টি হয়, আবহাওয়াবিদেরা তা–ই বলেন। সেই মেঘ দেখে কখনো কখনো তাই তাপে পুড়ে যাওয়া নগরবাসী আশায় বুক বেঁধেছিলেন, বৃষ্টি নামবে। তা তো হয়ইনি, বরং মেঘভাঙা রোদ তাপ বাড়িয়েছে বেশি মাত্রায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীরের দেওয়া তথ্য, বেলা ৩টায় আজ রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা ৬টার পর তা হয়েছে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যে বৃষ্টি-জাদুতে এই তাপ কমল, তা কতটুকু ঝরেছে রাজধানীতে? আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য, ৩২ মিলিমিটার।

আজ রাতে বৃষ্টির আর বেশি সম্ভাবনা নেই বলেই জানান তরিফুল নেওয়াজ কবীর। তিনি বলছিলেন, ঢাকার আকাশের মেঘ মাওয়া ও জাজিরার দিকে চলে গিয়ে সেখানে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে।

তবে এ সময়ে দেশের সবচেয়ে বেশি ১৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রংপুরে। বিভাগটির অন্য জেলাগুলোতে হওয়া বৃষ্টিপাতের পরিমাণও কম ছিল না। সৈয়দপুরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তেঁতুলিয়ায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ সময়ে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কোনো জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এর আগে, দেশের ৫ বিভাগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির সতর্কবার্তা জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস দেওয়া হয়েছিল। 

আবহাওয়া অফিসের বার্তায় বলা হয়, রোববার দুপুরের পর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে পশ্চিম/উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বা তার বেশি বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *