এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

জাতীয় সংসদের সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা সংক্রান্ত ধারা বিলুপ্ত করে একটি বিল পাস হয়েছে। রোববার সংসদের বৈঠকে ‘দ্যা মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেম্যুনিউরেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার ১৯৭ সংশোধন’ বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

বিলটির ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। কোনো আলোচনা ছাড়া বিলটি সংসদে পাস হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনটির সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। বিলে পাসের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের ৩সি ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ ধারায় বলা ছিল, একজন সদস্য তার পুরো মেয়াদকালে শুল্কমুক্তভাবে (মূল্য সংযোজন কর), উন্নয়ন সারচার্জ এবং আমদানি পারমিট ফি ব্যতীত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিবরণ ও শর্ত অনুযায়ী একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন।

সর্বশেষ আমদানির তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আরেকটি নতুন গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন। এই সংসদ গঠনের পরপরই সরকারি দল ও বিরোধী দল থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল তারা কেউ শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না।

সংসদের অধিবেশনে বহুল আলোচিত এ বিলটি পাসের সময় অধিবেশনে উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য টেবিল চাপড়ে এই বিল পাসের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।বিলটি পাস হওয়ার ফলে এখন থেকে সংসদ সদস্যরা (এমপি) আর শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুযোগ পাবেন না। সাধারণ নাগরিকদের মতো সংসদ সদস্যদেরও গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শুল্ক ও কর দিতে হবে।এত দিন সংসদ সদস্যরা কোনো প্রকার শুল্ক বা ট্যাক্স ছাড়াই বিদেশ থেকে দামি গাড়ি আমদানির আইনি সুবিধা ভোগ করতেন।

এ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্যদের নিজের নামে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি একদিকে যেমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, অন্যদিকে তেমনি এ ধরনের শুল্কমুক্ত সুবিধা কর প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের মালিক জনগণের সঙ্গে দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সঙ্গে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে ওই সুবিধা বাতিল করার জন্য এই বিলটি আনা হলো।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করে আসছিলেন, যা নিয়ে জনমনে সমালোচনা ছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের প্রথার অবসান ঘটল। এর আগে ২৩ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদের সভায় সংসদ সদস্যদের এই সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। এরও আগে সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সংসদ। গত বৃহস্পতিবার বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাবে এই গঠনের বিষয়ে একমত হন। সেদিনই সরকারি দল ও বিরোধী দল ৫ জন করে ১০ সদস্যের নাম প্রস্তাব করা হয়।

রোববার সংসদের বৈঠকে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। পরে প্রস্তাবটি সংসদে পাস হয়। এই কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ দিন।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- জ্বালানীমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সরকারি দলের সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, বিরোধী দলের সদস্য সাইফুল আলম, নুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল বাতেন, আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ আবুল হাসান।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *