বুলেট বৈরাগীকে হত্যা করা হয় চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে (৩৫) পরিকল্পিতভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে হত্যা করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সদস্যরা তাকে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সিএনজিতে থাকা চারজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। গতকাল রবিবার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার হলো- মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও সুজন।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

র‌্যাবের ‎পরিচালক জানান, ২৪ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল মরদেহে।

এ ঘটনায় কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত বুলেটের নীলিমা বৈরাগী।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং তদন্ত শুরু হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। সিএনজিতে থাকা চারজনকে আটক করা হয় বিভিন্ন এলাকা থেকে।

এ ছাড়া নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ গ্রেফতার করা হয় সুজনকে।

অভিযানকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, হাতুড়িসহ উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন আলামত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত।

ঘটনার রাতে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর টার্গেট করা হয় বুলেট বৈরাগীকে। পরে তাকে সিএনজিতে তুলে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর ফেলে দেওয়া হয় চলন্ত গাড়ি থেকে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বিভিন্ন থানায়। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেখান থেকেই গত ১১ এপ্রিল ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।

নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া বাবুপাড়া গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগ দেন।

চাকরির সুবাদে কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ সংলগ্ন পানপট্টি এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন তিনি। তার বাবা, মা ও স্ত্রী ছাড়াও এক বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *